সাকিবের ইনজুরি নিয়ে যা বললেন আকরাম খান

অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে এক দুঃসংবাদ শুনিয়ে গেছেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট ও টি-২০ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বলেছেন, চাইলে তার আঙুল আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। বড়জোর ব্যাট ভালোভাবে ধরতে পারবেন, ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন। সাকিবের মুখে এমন কথা শোনার পরই কার ভালো লাগার কথা! অজানা আশঙ্কায় বুক কাঁপছে ভক্তদের।

প্রশ্ন জাগছে, বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার আগের ধারায় ফিরতে পারবেন তো! না পারলে কী হবে। তার জায়গায় হাল ধরবে কে? তবে সবার আস্থা ফিরিয়ে আনলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান। যোদ্ধা সাকিবের ওপর আস্থা রাখতে বললেন। বললেন, সাকিব ঠিকই ফিরবে আগের চেহারায়।

গতকাল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আকরাম বলেন, ‘সাকিব ব্যথা নিয়েই যেভাবে ভালো খেলেছে, সে একজন যোদ্ধা। বিশ্বের অনেক বড় বড় খেলোয়াড় চোটে পড়ে খেলাই ছেড়ে দিয়েছে। আমাদের মাশরাফি সেটা করেনি। সাকিবও লড়াকু, কষ্ট হলেও পারফরম্যান্স সে ধরে রাখবে। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মানসিকভাবে বিষয়টা আপনি কিভাবে নিচ্ছেন। ওদের অনেক আগ থেকেই চিনি। তারা মানসিকভাবে শক্ত। আশা করি, আগের জায়গায় তারা ফিরে আসবে।’

বছরের শুরুতে ত্রিদেশীয় সিরিজে আঙুলের চোটে পড়েন সাকিব। চোট কাটিয়ে ফিরেন মার্চে নিদাহাস ট্রফির শেষ দিকে। এরপর দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে খেলেছেন। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে চোটটা আবার মাথাচাড়া দেয়ায় পুরো সিরিজে ব্যথানাশক ইনজেকশন দিয়ে খেলেছেন সাকিব। ক্যারিবীয় সিরিজ শেষে দেশে ফিরে সাকিব অস্ত্রোপচারের ইচ্ছের কথা জানান। কিন্তু বিসিবি সভাপতির চাওয়া ও দলের কথা ভেবে অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দেন। চোট নিয়েই এশিয়া কাপে চারটি ম্যাচ খেলেন। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আঙুলের অবস্থার এতটাই অবনতি হয় যে দেশে ফিরতে বাধ্য হন।

আঙুলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র যাওয়া বাতিল করে ভর্তি হন রাজধানীর একটি হাসপাতালে। সেখানে কয়েক দফায় পুঁজ অপসারণ করা হয়েছে সাকিবের। তবে সংক্রমণ থেকে পুরোপুরি মুক্তির আগে অস্ত্রোপচার সম্ভব নয়। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গ্রেগ হয়কে দেখাতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছেন সাকিব। তার সাথে আলোচনা করে চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এদিকে সাকিবের আঙুলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ফিজিও থিহান চন্দ্রমোহনেরও দায় দেখছে বিসিবি।

জাতীয় দলের পাঁচ সিনিয়র ক্রিকেটার ইনজুরিতে। কিছু দিন আগেই ইনজুরি থেকে ফিরেছেন একাধিক ক্রিকেটার। সামনেই ২০১৯ বিশ্বকাপ। এর আগে একাধিক সিরিজ, একাধিক ম্যাচ। রয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি। দীর্ঘ সফরের জন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

ক্রিকেট বোর্ডের অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেন, ‘ইনজুরিসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ৬-৭ মাস আগে টিম ম্যানেজম্যান্টের সাথে আলাপ আলোচনা করেছিলাম। সত্যি কথা বলতে এখন ১৩-১৪ জন ক্রিকেটার ইনজুরিতে আছে! এটা আমাদের জন্য অনেক সিরিয়াস একটা ব্যাপার। কারণ আমাদের অপশন অনেক কম। এখন থেকে প্রত্যেকটা পদক্ষেপ আমাদের অনেক গুরুত্বের সাথে নিতে হবে।’

জাতীয় দলের মতো করে আরেকটি দল সাজানোর পরিকল্পনা বিসিবির। হতে পারে সেটা ‘এ’ দল। সেই দলের খেলোয়াড়দের রাখা হবে মূলত ব্যাকআপ হিসেবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সিরিজে পর্যায়ক্রমে একাধিক ক্রিকেটারকে বিশ্রাম দেয়ার পক্ষে অনেকে। সাথে সাথে নতুনদের সুযোগ দেয়ার পক্ষেও অনেকে।

‘কোন খেলোয়াড়কে খেলানো যাবে, কাকে খেলানো যাবে না এসব নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আবার এর মধ্যে জিততেও হবে। কিছু খেলোয়াড় আছেন যারা খুব দ্রুত সেরে উঠবেন। হয়তো সাকিব-তামিমেরটা একটু সময় লাগবে। তাদের ফিরে আসতে যত সুযোগ-সুবিধা দরকার হবে সব দিব। এই মুহূর্তে যারা সিনিয়র ক্রিকেটার আছেন বা ইনজুরিতে যারা আছেন ওদের কথা চিন্তা করব এবং সেই সাথে ম্যাচ জেতার জন্য কাদের খেলাতে হবে সেটাও মাথায় রাখতে হবে। তরুণদের সুযোগ দেয়া হবে। ওরা যদি ভালো খেলে তাহলে ভালো। তাদেরকে নিয়েও পরবর্তীতে রিক্স নেয়া যাবে।’

ইনজুরি মিছিলের জন্য নিজেদের ভাগ্যকে দুষলেন আকরাম, ‘স্পোর্টসম্যানদের ইনজুরি সমস্যা থাকে। কিন্তু আমাদের ভাগ্য খারাপ… তাই এশিয়া কাপে ৫০ ভাগ শক্তি নিয়ে খেলেছি। গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্রিকেটার ইনজুরি নিয়ে খেলেছে আবার অনেকে ইনজুরিতে পড়েছে। নতুন করে আবার কেউ গুরুতর ইনজুরিতে পড়লে তখন কিছু করার থাকবে না।’