ক্রিকেটের ৫ স্তম্ভকে ছাড়াই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ!

সাকিব আল হাসানের বিকল্প মানেই একজন বাঁ হাতি স্পিনার ও একজন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখলে সাকিব দলে না থাকা মানে দলে দু’জনের অন্তর্ভুক্তির টিকিট পাওয়া। এশিয়া কাপে তো তাই দেখা গেল। সাকিবের বদলে দুবাই গেলেন ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস ও বাঁ হাতি স্পিনার নাজমুল অপু। এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে সাকিব-তামিম নেই। তাহলে এবার তাদের বদলে কে?

আঙুলের চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া যাওয়া সাকিবের পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে থাকছেন না দলের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। এদেরকে ছাড়াই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দল সাজাতে হচ্ছে নির্বাচকদের। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর দেয়া তথ্যানুযায়ী তিন-চার দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত ওয়ানডে সিরিজের দল। ১১ অক্টোবরের মধ্যে দল চূড়ান্ত করার কথা।

এ দিকে সাকিব-তামিম ছাড়াও বাকি তিন সিনিয়র মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহীমেরও কমবেশি ইনজুরি রয়েছে। মাশরাফি ভুগছেন ডান হাতের কনিষ্ঠা আঙুলের সমস্যায়, পাশাপাশি ঊরুতেও রয়েছে চোট। মুশফিকের পাঁজরে ব্যথা পুরনো, মাহমুদুল্লাহরও রয়েছে পাঁজরের ব্যথা। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পাঁচ স্তম্ভ ছাড়াই কী হচ্ছে জাতীয় দল। মিরপুরের আকাশে-বাতাসে তেমন গুঞ্জনই ভাসছে। নতুনদের সুযোগ দেয়া হতে পারে পরীক্ষামূলক। তবে প্রধান নির্বাচক জানালেন, ‘জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হালকা করে নেয়ার সুযোগ নেই। আমরা সামর্থ্যরে সম্ভাব্য সেরা দল নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করব। কাজেই কাউকে বিশ্রাম দেয়ার প্রশ্ন অবান্তর।’

এশিয়া কাপে তামিম-সাকিবসহ স্কোয়াড ছিল ১৯ জনের। পরে ইনজুরিতে এ দু’জন ছিটকে যাওয়ায় এ সংখ্যা কমে ১৭ তে নেমে আসে। এবার সাকিব-তামিম ছাড়া বাকি তিন স্তম্ভকে দলে প্রাধান্য দিয়ে প্রধান নির্বাচক জানান, ‘আমরা ১৪ জনের দল সাজাতে চাই। তাতে নতুন কারো অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা খুব কম। এশিয়া কাপ স্কোয়াডের বাইরে থাকা কারোর ঢোকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।’

এশিয়া কাপে শেষ মুহূর্তে দলে স্থান পাওয়া ইমরুল ও সৌম্যও থাকতে পারে দলে। রাজশাহীর মিজানুর রহমান মিজান নির্বাচকদের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। তাকেও আমলে রাখছেন নির্বাচকেরা, ‘আমরা মিজানকে খুটিয়ে দেখব। পাশাপাশি নাজমুল শান্তর সর্বশেষ অবস্থাও পরখ করব। তাই জাতীয় লিগের পরবর্তী পর্বে আমি রাজশাহী যাচ্ছি। জাতীয় লিগের দ্বিতীয় ম্যাচ দেখতে (মিজান ও শান্ত রাজশাহীর হয়ে খেলছেন)।’

মাশরাফি, মুস্তাফিজ, রুবেলের সাথে চতুর্থ পেসার হিসেবে ছিলেন আবু হায়দার রনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে হয়তো দু’জন পেসারও খেলানো হতে পারে। স্পিনার কোটায় মেহেদি মিরাজ ও নাজমুল অপু ছিলেন। চার পেসার ও দুই স্পিনার মিলিয়ে ছয়জন প্রায় নিশ্চিত। ব্যাটসম্যান হিসেবে লিটন দাস নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেছেন। মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ এবং হাফ সেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ মিঠুনও থাকবেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজে।

এই চারজনের বাইরে নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মুমিনুল হক, আরিফুল হক, ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার। এদের মাঝে দু’জনকে বাইরে থাকতে হবে। তন্মধ্যে শান্ত, সৈকত ও মুমিনুলের মাঝে যেকোনো দু’জন থাকতে পারেন বাইরে। কারণটা হলো এশিয়া কাপে তাদের পারফরম্যান্স মোটেই সুবিধার ছিল না। সৌম্য ফাইনালে সুযোগ পেয়ে তেমন কিছু করতে না পারলেও শেষ দিকে ৩৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। দেশে ফিরে জাতীয় লিগে সেঞ্চুরিও করেছেন সৌম্য। তাই ইমরুল-সৌম্য প্রায় নিশ্চিত। তা ছাড়া সৌম্যের ফলাফল যাই থাক না কেন ভাগ্যই তাকে জায়গা করে দেয় জাতীয় দলে।