এখন আর জড়তা নেই মিথুনের

ঘরোয়া ক্রিকেটের অতি পরিচিত নাম মোহাম্মদ মিথুন। তার সামর্থ্যে আস্থা রেখেছেন অনেকেই। কখনও আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন, কখনও পারেননি। তবে খেই হারাননি। বিশ্বাস ধরে রেখে লড়াই চালিয়ে গেছেন। তার এই বিশ্বাসের ওপর আস্থা রেখেছে বাংলাদেশ দলও। যার ফল মিলেছে গেল এশিয়া কাপে। মহা বিপদের মুহূর্তে দুটি দারুণ ইনিংস খেলে পাঁচ নম্বর জায়গায় নিজেকে শক্ত দাবিদার করে তুলেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

মিথুনকে বিবেচনা করা হয় এমন একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে, যে টপ অর্ডার বা মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করতে পারেন আবার শেষের দিকে নেমেই চার-ছক্কার ফুলঝুরি সাজানোর সামর্থ্য রাখেন। আগে পাওয়া কয়েকবারের সুযোগে সেটা প্রমাণ করতে পারেননি তিনি। কিন্তু এশিয়া কাপে পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করা মিথুন হয়ে উঠেছিলেন নির্ভরতার প্রতীক। দলের সবচেয়ে খারাপ সময়ে ব্যাটকে কথা বলিয়েছেন নিজের করে। যেটা তাকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মনোবল-আত্মবিশ্বাস।

এই দুই ইনিংস দিয়ে জড়তাকে বাক্সবন্দী করে নিয়েছেন মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যান। এবার তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বুক চিতিয়ে লড়তে চান মিথুন, ‘পরিবর্তন আসলে ওইরকম কিছু না। আগের মতোই আছি। শুধু আত্মবিশ্বাসটা বেড়েছে। আগে একটা জড়তা কাজ করত। না পারলে আবার বাইরে, এই চিন্তা কাজ করত। এখন সেটা আপাতত নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য এসেছে। এখন আত্মবিশ্বাস আছে, এই পর্যায়ে ভালো করতে পারব।’

এশিয়া কাপে সোজা বলে লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে পরাস্থ হয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে ৯টি ওয়ানডে ও ১৩ টি-টোয়েন্টি খেলা মিথুন। তাই ৬৩ ও ৬০ রানের মহামূল্যবান দুটি ইনিংস খেলা মিথুন আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেলেও উন্নতির জায়গা দেখছেন, ‘চাপের মুখে ব্যাট করতে গেলে অনেক সময় লুজ বলও মিস হয়ে যায়। এটাই ক্রিকেট। তারপরও এসব নিয়ে কাজ করছি। সামনে অনেক সময় আছে, সামনেও এসব নিয়ে কাজ করব।’

শটস খেলতে ভালোবাসেন মিথুন। নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণত স্ট্রোক প্লেয়ার। আমি স্ট্রোক খেলতেই পছন্দ করি। আর যখন একটা বড় ইনিংস খেলবেন, তখন কিছু বড় শট দেখবেন; এটাই স্বাভাবিক। আমি নরমালি পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে সাইড স্ট্রোক খেলতে পছন্দ করি এবং স্পিনারদের বিপক্ষে ফিট ইউজ করে থাকি।’

এরআগে সুযোগ পেয়ে দলে নিজেকে স্থায়ী করতে পারেননি মিথুন। আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকতে হয়েছে তাকে। এই ব্যাপারটি কতটা কঠিন? জবাবে মিথুনের সাবলীল ব্যাখ্যা, ‘আমার কাছে খুব বেশি কঠিন মনে হয়নি। এটা আমার পেশা। ঘুম থেকে উঠে মাঠে না এলে আমার ভালো লাগে না। মাঠে এসে যদি কিছু করে যাই, তাহলে দিন শেষে এটাই আমার সন্তুষ্টি। আমি যেখান থেকে অর্থ উপার্জন করি, যা দিয়ে আমার পরিবার চলে, সেটার পেছনেই আমার সময় দিতে হবে। আমি অন্য কিছু করি না। মোটিভেশনটা সেখান থেকেই আসে।’

আগামী বছর ইংল্যান্ডে বসবে বিশ্বকাপের আসর। বিশ্বকাপ স্বপ্ন নিয়ে প্রশ্ন করলে মিথুন বলেন, ‘আমি আসলে ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করি। একটা সিরিজ শেষ হয়েছে, আমি আপাতত জিম্বাবুয়ে সিরিজ নিয়ে চিন্তা করছি। বিশ্বকাপের এখনও অনেক সময় বাকি। এর মধ্যে সুস্থ থাকতে হবে, পারফর্ম করতে হবে। সিরিজ বাই সিরিজ ভালো করতে পারলে আমি বিশ্বকাপে সুযোগ পাব। বিশ্বকাপের স্বপ্ন তো সবার থাকে। আমারও স্বপ্ন আছে বিশ্বকাপ খেলার। তবে তার আগে অনেকগুলো স্টেজ রয়েছে পার করার।’-প্রিয়।