ম্যাচের দিন আমি ৩০ ভাগ ফিটও ছিলাম না

সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও অনেকগুলি ইনজুরি নিয়ে দেশে ফিরেছেন ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে এশিয়া কাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষেই ইনজুরি নিয়ে খেলেছিলেন তিন ক্রিকেটার।

সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল এর সাথে যোগ দেন জাতীয় দলের রান মেশিন মুশফিকুর রহিম। প্রথম দিনের ম্যাচের আগে ৩০ ভাগ ফিরছিলেন মুশফিকুর রহিম এমনটাই বলেছেন তিনি। শ্রীলংকার বিপক্ষে এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিকুর রহিম।

মুশফিকুর রহিমের ওই ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস এর উপর ভর করেই মূলত শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই জয় লাভ করে বাংলাদেশ দল। কিন্তু ওই ম্যাচে ৫০ ভাগ ফিট ছিলেন না মুশফিকুর রহিম।বিডিনিউজকে এক সাক্ষাৎকারে মুশফিকুর রহিম বলেন, “প্রথম ম্যাচের আগের দিন আমি ৩০ ভাগ ফিটও ছিলাম না।

চোটটা পেয়েছিলাম ১২ সেপ্টেম্বর, প্র্যাকটিসে ডাইভ দিয়ে হাতের কবজির হাড় লাগে পাঁজরে। তার পর থেকে ব্যথা আস্তে আস্তে বাড়ছিল। তবে ম্যাচের আগের দিন যে এতটা তীব্র হবে ব্যথা, সেটা ভাবতে পারিনি।

সেদিন প্র্যাকটিসে নেটে আমি ব্যাট ধরে দাঁড়াতে পারছিলাম না। ফিজিওকে বলার পর এক্সরে করা হয় তাৎক্ষনিক, দেখা যায় চিড় আছে। ব্যাট হাতে নিয়ে আমি পুশ করতেই পারছিলাম না। রাতটা খুব হতাশায় কেটেছে। এত দারুণ প্রস্তুতি ছিল আমার, এত কষ্ট করেছি, তার পর খেলতে না পারা বড় একটা ধাক্কা ছিল আমার জন্য। মানতে কষ্ট হচ্ছিল।

সকালে উঠে একটু ভালো বোধ করলাম। ব্যথা ছিল। তবে যেসব ফিজিও পেইনকিলার দিয়েছিল, সেসব ভালো কাজ করেছিল। ম্যাচের বেশ আগে, ১২টার দিকে মাঠে চলে যাই দেখতে যে ব্যাটিং করলে কেমন লাগে। ব্যথা লাগছিল তখনও। তবে মনে হলো যে হয়ত ডাইভ দেওয়া ছাড়া বাকি সব ম্যানেজ করা সম্ভব।

সত্যি বলতে ৩৫-৪০ শতাংশও হয়তো ফিট ছিলাম না, তবু খেলতে চেয়েছি। কারণ প্রথম ম্যাচটা আমাদের জন্য খুব জরুরি ছিল সুপার ফোরে উঠতে। সাকিব ইনজুরি নিয়ে খেলছিল, তামিম খেলছিল। আমার মনে হলো, দলের এমন প্রয়োজনের ম্যাচে আমি কেন পারব না!

একটা ঝুঁকি নিয়েছিলাম। কারণ ওই ম্যাচ হারলে আমাদের কাজটা কঠিন হয়ে যেত। আর ভেবেছি, ম্যাচটা পার করে দিতে পারলে পরের ম্যাচ চারদিন পর, বিশ্রাম পাব। আল্লাহর রহমতে সব খুব ভালোভাবে হয়েছিল সেদিন।

পরের ম্যাচগুলোতে অবস্থা এতটা খারাপ ছিল না। শতভাগ ছিলাম না অবশ্যই। তবে চেষ্টা করেছি কষ্ট করে হলেও দেশের জন্য কিছু করার”।