১২ বছর পর আব্বাস

দীর্ঘ ১২ বছর পর পাকিস্তানের পেসার হিসেবে এক টেস্টে ১০ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়লেন ডান-হাতি পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। আবুধাবিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ৯৫ রানে ১০ উইকেট শিকার করেন আব্বাস।

এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালে ক্যান্ডিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৭১ রানে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ আসিফ। তার আগে পাকিস্তানের হয়ে এক টেস্টে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন স্পিডস্টার শোয়েব আখতার। ২০০৩ সালে দু’বার এ নজির গড়েন তিনি। ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৮ রানে ১১ ও পেশোয়ারে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮০ রানে ১০ উইকেট নেন আখতার।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৮ বছর পর
দীর্ঘ ২৮ বছর পর পাকিস্তানি বোলার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ১০ উইকেট নিলেন কোন আব্বাস। আবুধাবি টেস্টে তিনি এই কৃতিত্ব দেখান। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের পর পাকিস্তানের কোন বোলার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক টেস্টে ১০ উইকেট নিলেন আব্বাস। সর্বশেষ ১৯৯০ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৬০ রানে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন ওয়াসিম আকরাম।

আকরাম-আব্বাস ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক টেস্টে ১০ বা তার বেশি উইকেট নেয়া পাকিস্তানের বোলার হলেন- ফজল মাহমুদ, ইমরান খান ও সরফরাজ নওয়াজ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আজ শেষ হওয়া দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ৯৫ রানে ১০ উইকেট শিকার করেন আব্বাস।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম বোলার হিসেবেও ১০ উইকেট নিলেন আব্বাস। এর আগে জুনাইদ খানের ৮ উইকেটই ছিলো সর্বোচ্চ।

আবুধাবি টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে রেকর্ড ব্যবধানে হারালো পাকিস্তান। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অসিদের ৩৭৩ রানের বড় ব্যবধানে হারালো পাকিস্তান। টেস্টে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে রান বিবেচনায় এটি তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। এর আগে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় জয়টি ছিলো ৩৫৬ রানে। ২০১৪ সালে এই ভেন্যুতেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিলো তারা। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতলো সরফরাজের দল।

তৃতীয় দিন শেষেই ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখছিলো পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়াকে ৫৩৮ রানের বিশাল টার্গেট দেয় তারা। সেই লক্ষ্যে দিন শেষে ১ উইকেটে ৪৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ২৪ ও ট্রাভিস হেড ১৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।

চতুর্থ দিন ফিঞ্চ ৩১ রানে থামলেও বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা করেন হেড। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। ৩৬ রানে থামতে হয় তাকে। এরমাঝে মিডল-অর্ডারের অন্য দুই ব্যাটসম্যান মিচেল মার্শ ও অধিনায়ক টিম পাইন শূন্য হাতে ফিরেন। ফলে ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারের পথ তৈরি হয়ে যায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার।

এরপর ব্যাট হাতে লড়াই করার চেষ্টা করেন মার্নাস লাবুসচাগনে ও মিচেল স্টার্ক। ষষ্ঠ উইকেটে শক্তহাতেই পাকিস্তানের বোলারদের সামলাতে থাকেন তারা। ফলে দলীয় স্কোর দেড়শ’র কাছাকাছি চলে যায়। কিন্তু দেড়শ স্পর্শ করার আগেই এই জুটিকে বিচ্ছিন্ন করেন পাকিস্তানের লেগ-স্পিনার ইয়াসির শাহ। ২৮ রান করা স্টার্ককে শিকার করেন ইয়াসির।

৪৩ রান করা লাবুসচাগনেকে আউট করে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মত পাঁচ উইকেট নেন পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। তার বিদায়ের কিছুক্ষণ পরই ১৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
৬২ রানে ৫ উইকেট নেন আব্বাস। প্রথম ইনিংসে ৩৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত ম্যাচে ১০ উইকেট নিলেন আব্বাস। তাই ম্যাচ ও সিরিজ সেরা হয়েছেন আব্বাস।

টেস্ট সিরিজ শেষে এবার তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলবে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া। যা শুরু হবে ২৪ অক্টোবর থেকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
পাকিস্তান : ২৮২ ও ৪০০/৯ডি, ১২০ ওভার (বাবর ৯৯, সরফরাজ ৮১, লিও ৪/১৩৫)।
অস্ট্রেলিয়া : ১৪৫ ও ১৬৪, ৪৯.৪ ওভার (লাবুসচাগনে ৪৩, হেড ৩৬, আব্বাস ৫/৬২)।
ফল : পাকিস্তান ৩৭৩ রানে জয়ী।
সিরিজ : দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতলো পাকিস্তান।
ম্যাচ সেরা : মোহাম্মদ আব্বাস (পাকিস্তান)।
সিরিজ সেরা : মোহাম্মদ আব্বাস (পাকিস্তান)।