মাদ্রাসাছাত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন

ফেনীর সোনাগাজীতে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। দগ্ধ ছাত্রীর নাম নুসরাত জাহান রাফি (১৮)।শনিবার সকালে পৌর শহরের সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর দগ্ধ নুসরাত জাহানকে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সে সোনাগাজী পৌরসভার চরচান্দিয়া গ্রামের একেএম মুসার মেয়ে। রাফি স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিল।নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ, পরীক্ষা দিতে সকালে কেন্দ্রে প্রবেশের আগে নুসরাতকে কয়েকজন মুখোশপরা মেয়ে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়।তারা নুসরাতকে বলে তার এক বান্ধবীকে ছাদে পেটানো হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, নুসরাতকে মিথ্যা বলে, পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসানের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করেছিল নুসরাত। সেই কারণে অধ্যক্ষের পক্ষের শিক্ষার্থীরা তার বোনকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে মামলা করে নুসরাতের পরিবার। পরে পুলিশ ওই মামলার জেরে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসানের আরও জানায়, আগুন লাগার পর নুসরাত আমাকে জানিয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওই মামলা তুলে নিতে নুসরাতকে চাপ দেয় অধ্যক্ষের পক্ষের কিছু শিক্ষার্থী। নুসরাত মামলা তুলে নেবে না জানালে তারা তার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।তিনি বলেন, সকালে আমার বোনের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা ছিল। আমি ওকে পরীক্ষার হলে দিয়ে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাদ্রাসার অফিস সহকারী মোহাম্মদ মোস্তাক আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেয় নাই।

নুসরাতকে প্রথমে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাঠানো হয় ২৫০ শয্যার ফেনী সদর হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আবু তাহের জানান, নুসরাতের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার শরীরের ৭০-৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক।

এদিকে পুলিশের জবানবন্দিতে নুসরাত জানিয়েছে, পরীক্ষার কেন্দ্রের বাইরে তাকে কয়েকটি মুখোশপরা মেয়ে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় তারা তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলাটি তুলে নিতে বলে। নুসরাত তাতে অস্বীকৃতি জানালে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে মুখোশপরা মেয়েদের পরিচয় জানাতে পারেনি নুসরাত।

সোনাগাজি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় তদন্তকাজ অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি। তদন্তে অভিযুক্ত কেউ থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র : বিবিসি