আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল, শঙ্কা জাগাচ্ছে ‘ফণী’

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’-তে পরিণত হওয়ায় আশঙ্কা জাগছে উপকূলবাসীর মনে। সে আশঙ্কা আরও প্রকট করেছে ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ নিহত এবং ১ কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়। সেদিনের ভয়াল এই ঘটনা এখনও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়ায় উপকূলবাসীকে।

নিহতদের স্মরণে আজ সোমবার (২৯ এপ্রিল) চট্টগ্রামে কয়েকটি সংগঠন আলোচনা সভা, সেমিনার, মিলাদ, খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ প্রবল শক্তিশালী রূপ নিচ্ছে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম। সোমবারও বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল রয়েছে।

সর্বশেষ বুলেটিনকে উদ্ধৃত করে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঘূণিঝড়টি রোববার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।’

এদিকে প্রতি বছরের মতো এ বছরও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ভয়াল ২৯ এপ্রিল স্মরণে এবং নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।