চড়া দামেও মিলছে না বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের টিকেট!

এখন অবধি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোতে গ্যালারি পরিপূর্ণ ছিল বাংলাদেশের সমর্থকে। দুই দলের মধ্যে বাংলাদেশের সমর্থকের উপস্থিতিই ছিল বেশি। তবে এমন দৃশ্য দেখা যাবে না বার্মিংহামের এজবাস্টনে, আগামী ২ জুলাই। এদিন বিশ্বকাপের অন্যতম দাবীদার ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডে প্রচুর বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করলেও এজবাস্টনে প্রবাসীদের বিচারে ভারতেরই আধিপত্য। আর এ কারণে বাংলাদেশি সমর্থকরা পিছিয়ে পড়েছেন টিকেট ক্রয়ের দিক থেকে।

এই ম্যাচেরও টিকেট ভাগ করা হয়েছে মোট চারটি ক্যাটাগরিতে- ব্রোঞ্জ (৪০ পাউন্ড), সিলভার (৬০ পাউন্ড), গোল্ড (৯৫ পাউন্ড) ও প্লাটিনাম (১২৫ পাউন্ড)। আইসিসির ওয়েবসাইটে এখন প্লাটিনাম ছাড়া অন্য কোনো ক্যাটাগরির টিকেট নেই, অর্থাৎ স্বল্পমূল্যের দিক থেকে তিন ক্যাটাগরির টিকেটই বিক্রি হয়ে গেছে। কালোবাজারিদের কাছে পাওয়া যাচ্ছে অপেক্ষাকৃত স্বল্প মূল্যের টিকেটগুলো, তবে সেগুলোর জন্য গুনতে হচ্ছে প্লাটিনাম ক্যাটাগরির মতই চড়া দাম!

টিকেটের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরা বাংলাদেশিরা সমর্থকরা জানিয়েছেন, এজবাস্টনের হাই ভোল্টেজ ম্যাচটির ব্রোঞ্জ ক্যাটাগরির একেকটি টিকেটের মূল্যই চাওয়া হচ্ছে ১৫০ পাউন্ড পর্যন্ত। এতে অনেকে বিসর্জন দিচ্ছেন মাঠে বসে টাইগারদের সমর্থন জোগানোর ইচ্ছা। কেউ কেউ আবার এই চড়া মূল্য পরিশোধে সম্মত হলেও তাকে ছুটতে হচ্ছে টিকেটের খোঁজে!

টিকেট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য উপমহাদেশের মত ইংল্যান্ডে এতটা নেই। তবে এশিয়ার সেরা দুই দলের লড়াই উপলক্ষ্যে ২ জুলাইর ম্যাচ এজবাস্টনকেই যেন রূপ দিয়েছে মিরপুর অথবা কলকাতায়! বাংলাদেশি সমর্থকদের টিকেট নিয়ে বিড়ম্বনার ইতি ঘটবে কি না তা অনিশ্চিত। তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে- ঐ ম্যাচে গ্যালারিতে ভারতীয় সমর্থকের সংখ্যাই থাকবে বেশি।

আরো পড়ুন: ভারত কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও চাপ নিচ্ছে না বাংলাদেশ

সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্নপূরণের জন্য বাংলাদেশের পরবর্তী দুইটি ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভারতের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে টাইগাররা বাড়তি চাপ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলেও ভালো ফল আসবে তার বিশ্বাস।

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি আগামী ২ জুলাই। এই ম্যাচের আগে ৭ দিন বিরতি। যার মধ্যে ২৫ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ছুটি পেয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এর মধ্যে ২টি ম্যাচ খেলবে ভারত, উইন্ডিজ ও স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত অপরাজিত আছে ভারত।

ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই প্রতিপক্ষকে দমন করে জয় তুলে নিয়েছে ভারত। বিরাট কোহলির দল যে কঠিন প্রতিপক্ষ তা মানছেন বাংলাদেশের তরুণ অলরাউন্ডার মিরাজ। তবে বাংলাদেশ যে কোনো বাড়তি চাপ নিচ্ছে না সেটাও জানিয়েছেন তিনি।

ভারতের বিপক্ষে বেশ কিছু ম্যাচে ভালো খেলেও শেষ পর্যন্ত যে বাংলাদেশ জয়ের দেখা পায়নি সেটাও স্মরণ করেছেন মিরাজ। সর্বশেষ এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচে ভারতের সাথে দেখা হয়েছিল বাংলাদেশের। সে ম্যাচে শেষ ওভারে যেয়ে হার মানতে হয়েছিল টাইগারদের।

বাংলাদেশ এবারো নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত। ভাগ্য সহায় থাকলে ২ জুলাইয়ের ম্যাচটা বাংলাদেশ জিততে পারে বলে বিশ্বাস মিরাজের, ‘ভারতের সঙ্গে অনেকগুলো ম্যাচ আমরা খুব কাছে গিয়ে হেরেছি। বলব ভাগ্যের ছোঁয়া সেভাবে পাইনি। আল্লাহ সহায় হলে এই ম্যাচটা আশা করি জিততে পারব। হ্যাঁ, অবশ্যই ভারত কঠিন প্রতিপক্ষ। তারা দাপটের সঙ্গে খেলছে, ভালো খেলছে। আমরা এসব ভেবে চাপ নিচ্ছি না। স্বাভাবিকভাবে খেলা খেললেই ভালো কিছু হবে আশা করি।

২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ২ দল। সেই ম্যাচে ন্যাক্কারজনক হার দেখেছিল বাংলাদেশ। ২০১১ বিশ্বকাপে ঘরের মাটিতে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল সাকিব আল হাসানের দল। তবে ২০০৭ সালে তখনকার তরুণ সাকিব-মুশফিকদের দৃঢ়তায় ভারতকে হারিয়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপে জয়োৎসব করেছিল বাংলাদেশ।-বিডিক্রিকটাইম।