বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে ইংল্যান্ডকে সেমিতে নিতেই ভারতের এমন হার!

শেষের দিকে খেলা দেখে দেখলে এক বাক্যেই সবাই স্বীকার করবে এটা পরাজয়, এটা অসহায় আত্মসমর্পণ। আজকের সেই কাজটিই হলো। ইংল্যান্ডের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করলো এই বিশ্বকাপের অজেয় ভারত।

আত্মসমর্পণ করে হারলে ব্যাটিং-বোলিং কিংবা ফিল্ডিং কোন কিছুই ঠিকঠাক থাকে না। তেমনটাই ছিল গতকাল ভারতীয় শিবিরে। একটা ম্যাচও না হারা ভারতের এই অসহায় আত্মসমর্পণের জন্য সেমিফাইনালে দরজা অনেকটাই খুলে গেল স্বাগতিক ইংল্যান্ডের।

চলতি বিশ্বকাপের ৩৮তম ম্যাচে গতকাল মাঠে নামে ভারত ও ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩:৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ান মরগান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৩৭ রান করে ইংল্যান্ড। ৩৩৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। রানের খাতা না খুলেই ওকসের বলে তাকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন রাহুল। এরপর ব্যাট হাতে দলের হাল ধরেন কোহলি ও রোহিত।

তবে ব্যক্তিগত ৬৬ রানে ভিন্সের ক্যাচে প্ল্যাঙ্কেটের বলে ফিরেন কোহলি ও ১০২ রান করে ওকসের বলে বাটলারের হাতে ধরা পড়ে ফিরেন রোহিত। এরপর পান্থ ও হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে ভারত। সেখানে আঘাত করেন প্ল্যাঙ্কেট।

ওকসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩২ রান করে ফিরেন পান্থ ও ৪৫ রান করে ভিন্সের হাতে তালুবন্ধি হয়ে ফিরেন পান্ডিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩০৬ রান করে ভারত। ফলে ৩১ রানে জয় পায় ইংল্যান্ড। ধোনি ৪২ ও কেদার ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ধোনির জেতার ইচ্ছা ছিল না, ভারতীয় সমর্থকদের অভিযোগ:  যতক্ষণ ঋষভ আর হার্দিক খেলছিলেন, দেখে মনে হচ্ছিল জয়ের সুযোগ আছে ভারতের। সমর্থকদের আশা ছিল এরপর তো বিশ্বের সেরা ফিনিশার ধোনি আছেন। সুতরাং শেষদিকে তাঁর খেলা দেখা যাবে। কিন্তু কোথায় কী! ধোনি ও কেদার যাদব এমন খেললেন, যেন ৩৩৮ তাড়া করতে নয়, টেস্ট ম্যাচ বাঁচাতে নেমেছেন। আর তাঁদের এই মন্থর ইনিংসেই হারতে হলো ভারতকে। হারের পরেই সমালোচকদের তোপের কেন্দ্রে মাহি। ভারতের গণোমাধ্যমগুলোও ধোনিকে দারুণ সমালোচনার মুখে ফেলেছে। এই নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হচ্ছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়াল বলছে, ধোনি যখন ব্যাট করতে নামেন তখন প্রতি ওভারে ১০ করে দরকার ছিল ভারতের। সবাই ভেবেছিলেন, নিজের হিসেব অনুযায়ী খেলবেন মাহি। কিন্তু শুরু থেকে সিঙ্গলসের পিছনে ছুটলেন তিনি। উল্টোদিকে থাকা হার্দিকের ব্যাটও যেন থেমে গেল। হার্দিক আউট হতে তো অবস্থা আরও খারাপ হলো। আস্কিং রেট বাড়তে থাকল দ্রুত করে।

গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ৩০ বলে দরকার ছিল ৭১ রান। আজকের টি টোয়েন্টির যুগে এই রান হামেশাই দেখা যায়। কিন্তু ৩১ বলের পার্টনারশিপে দুজনে মিলে করলেন ৩৯ রান। মাত্র ৩ টা চার ও শেষ ওভারে একটা ছয়। ৩১ রানে ম্যাচ হারল ভারত। আর এই ইনিংসের পর মাহির উপর বেজায় চটেছেন সমর্থকরা।

কেউ বলছেন, ধোনিকে হলুদ জার্সি পরিয়ে দিলে তবেই তাঁর রান হয়। কেউ আবার বলছেন, এ যেন টেস্টের চতুর্থ দিনের শেষ এক ঘণ্টার খেলা চলছে, যেখানে উইকেট বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আবার কেউ বলছেন, ধোনি হয়তো নিজের গড় বাড়ানোর জন্য খেলছিলেন। এমনকী এই ইনিংস দেখে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক নাসের হুসেইন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে এই ব্যাটিংয়ের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমার কোনও ভাষা নেই এটা ব্যাখ্যা করার।

সমর্থকদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলছে, ধোনি না হয় এখন সেই আগের ধোনি নেই, কিন্তু কেদারের মধ্যেও তো জেতার মানসিকতা দেখা গেল না। তিনি নামার পর একটাও বাউন্ডারি মারেননি। এটা কি ধোনির নির্দেশেই! হার্দিক আউট হতেই কি মাহি বুঝে গিয়েছিলেন আর জিততে পারবেন না, তাই চেষ্টাও করেননি! কারণ যাই হোক, ধোনির প্রতিটা ডট বলের সঙ্গে গ্যালারিতে আওয়াজ উঠল ‘হায় হায়’। শেষবার কবে এই দৃশ্য দেখেছিল ভারতীয় ক্রিকেট।