‘মাগনা পুলিশে চাকরি হয়, এইড্যা আইজ প্রথম দেখলাম’

মাগনা পুলিশে চাকরি হয়, এইড্যা আইজ দেখলাম’ এই কথা বলেই কেঁদে দিলেন পুলিশে চাকরি পাওয়া ফারজানা আক্তার সুমির বাবা রিকসা চালক উমর ফারুক। ফারজানা আক্তা।সুমি বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সুহিলা গ্রামে। সোমবার (৮ জুলাই) রাত ৮টায় ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চুড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর আনন্দে কেঁদে ফেললেন এ তরুণী সুমি।

এ সময় পাশে থাকা সুমির বাবা উমর ফারুক সহ অনেকেই কেঁদে ফেলেন। এতো কষ্টের কান্না নয়। এ তো আনন্দের অশ্রুজল। রিকশা চালকের মেয়ে ফারজানা আক্তার সুমি। স্বপ্ন ছিল পুলিশে চাকরি করার। কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার যোজন-যোজন ব্যবধানে আশাহত হয়েছিলেন। হঠাৎ একদিন জানতে পারলেন পুলিশে চাকরি পেতে কোনো টাকা-পয়সা লাগেনা। পরে ১০৩ টাকায় আবেদন ফরম পূরণ করে গত ১ জুলাই ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে দাঁড়ালেন রিকশা চালকের মেয়ে ফারজানা আক্তার সুমি।

সব বাছাইয়ে মেধা ও যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হলেন। উমর ফারুক বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন আজ। বিনা পয়সায় আমার মাইয়ার (মেয়ের) চাকরি হইছে। মাগনা (টাকা ছাড়া) চাকরি হয় এইড্যা (এটি) আইজই (আজ) দেখলাম। আমি কোন দিন কল্পনাও করিনি যে টাকা ছাড়া আমার মেয়ে সুমির চাকরী হবে। সুমি কোন দিন সরকারী চাকরী করবে এটা ভাবিনি। যা এতো আমার বিশ্বাসই হতো না।

পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই বছরের পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ নজিরবিহীন ঘটনা। আইজিপি ডঃ জাবেদ পাটোয়ারীর কড়া নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা যেন পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।

এর আগে ১ জুলাই ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল টিআরসি পদে ৬ হাজার ২৮০ জন শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।এর মধ্যে শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২ হাজার ৩৬৮ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে লিখিত পরীক্ষায় পাস করে ৪৫২ জন। এর মধ্যে থেকে ২৫৭ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।