এটি আইসিসির খুব বাজে পদ্ধতি : ব্রেট লি

ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ২৪১ রান করে নিউজিল্যান্ড। টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২৪১ রানেই থামে ইংল্যান্ড। টাই হলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। তাতেও স্কোর সমান- দুদলেরই সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫ রান করে। শেষ পর্যন্ত বাউন্ডারির হিসাবে বিজয়ী হন ইংলিশরা। স্বপ্নভঙ্গ হয় কিউইদের। দোর্দণ্ড ক্রিকেট খেলেও নিউজিল্যান্ডের শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না অনেক ক্রিকেটবোদ্ধা। তাদের কাঠগড়ায় আইসিসির অভিনব নিয়ম।

এ নিয়েই প্রশ্ন তোলে বসেছেন খোদ অস্ট্রেলিয়ার পেস কিংবদন্তি ব্রেট লি। সোশ্যাল মিডিয়া টুইটারে তিনি বলেন, ইংল্যান্ডকে অভিনন্দন। দুর্ভাগ্য নিউজিল্যান্ডের। তাদের জন্য সমবেদনা। বিজয়ী বেছে নিতে এটি খুব বাজে পদ্ধতি। এ নিয়ম পাল্টাতেই হবে। এখন সেটি না বলে থাকতে পারছি না। এদিকে, শিরোপা জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৬ রান। দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে বুক চিতিয়ে লড়ছিলেন বেন স্টোকস। সেই ওভারের চতুর্থ বল মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে দৌড়ে দুই রান নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

এ পথে মার্টিন গাপটিলের থ্রো তার ব্যাটে লেগে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়। ফলে দুইয়ের জায়গায় ছয় রান পান স্বাগতিকরা। মূলত তাতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাতে ইংল্যান্ড। স্বপ্নভঙ্গ হয় নিউজিল্যান্ডের।এমন ভুতুড়ে সিদ্ধান্তের জন্য আম্পায়ারদেরই দায়ী করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বিখ্যাত আম্পায়ার সাইমন টাফেল। তিনি মনে করেন, ইংল্যান্ডকে সেসময় ছয় রানের জায়গায় পাঁচ রান দেয়া উচিত ছিল। এই সিদ্ধান্ত স্টোকসকে স্ট্রাইকে নিয়ে যায়। এটাও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গেছে।

এমন সিদ্ধান্ত মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) নিয়মকেও ভঙ্গ করেছে বলে দাবি করেন টাফেল। তিনি পাঁচবার আইসিসি বর্ষসেরা আম্পায়ার ছিলেন। বর্তমানে আম্পায়ারদের প্রশিক্ষণ দেন এই অজি ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব। অর্থাৎ কোচের ভূমিকা পালন করছেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, ইংল্যান্ডকে পাঁচ রান দেয়া উচিত ছিল। ছয় রান নয়। এটা পুরোপুরি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আম্পায়ারদের বিচারে ভুল হয়েছে। কে রান নিচ্ছিল তা লক্ষ্য করেননি তারা।

কিন্তু তাদের দেখা উচিত ছিল, ফিল্ডার বল থ্রো করার সময় ব্যাটসম্যানের গতিবিধি কেমন ছিল। আম্পায়াররা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা ন্যায্য নয়।

ওই সময় ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল তিন বলে নয় রান। ছয় রান পেয়ে যাওয়ায় দরকার ছিল দুই বলে তিন রান। শেষমেশ সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচটি। সেখানেও মীমাংসা না হলে সর্বোচ্চ বাউন্ডারি বিবেচনায় শিরোপা জেতেন মরগানরা। খালি হাতে ফেরেন উইলিয়ামসনরা।