মুসলিম নারী ভারতের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার!

ভারতের প্রচলিত ইতিহাসের কোথাও সে দেশের এক মুসলিম নারী সুরাইয়া বদরুদ্দিন তায়াবজির নাম পাওয়া যায় না। ভারতের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার হিসেবে সর্বত্র যে নামটি পাওয়া যায় সেটি হলো পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া। কিন্তু তিনি কী বাস্তবে ভারতের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার?ইংলিশ ইতিহাসবিদ ট্রেভোর রয়েলের বইতে বলা হয়েছে ভিন্ন কথা। তার দাবি, ভারতের জাতীয় পতাকার নকশা করেছিলেন এক মুসলিম নারী। এই সত্যকে দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে গোপন করা হয়েছে।

তিনি বইতে উল্লেখ করেন, ভারতের জাতীয় পতাকার নকশা বানিয়েছিলেন দেশটির সিভিল সার্ভিস অফিসার বদরুদ্দীন তায়েবজী’র স্ত্রী সুরাইয়া তায়েবজী।ট্রেভোরের দাবি, সুরাইয়ার করা নকশা পণ্ডিত জওহারলাল নেহেরুর ভালো লাগায় তিনি নিজের গাড়ীর বনেটে তা লাগিয়ে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেটাই ভারতের জাতীয় পতাকার মর্যাদা পায়।এই নারী অহিংস স্বাধীনতা আন্দোলনেও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। এই সত্যটিও কখনো সামনে আনা হয়নি। ভারতীয় ইতিহাসবিদদের লেখায় সুরাইয়ার নকশা করা পতাকার তথ্য পাওয়া যায় না।

তবে বিদেশি বেশ কিছু লেখকের লেখায় সুরাইয়ার কথা উঠে এসেছে। ফেরদৌস বেকনের ‘ভারতের ইতিহাস বিকৃতি ও সুরাইয়ার অস্বীকৃতি’ নামক লেখায়ও আছে এই ইতিহাসের বিস্তারিত।ভারতের জাতীয় পতাকার কেন্দ্রে ২৪টি দণ্ডযুক্ত নীল ‘অশোকচক্র’সহ গেরুয়া, সাদা ও সবুজ আনুভূমিক আয়তাকার ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা। এ পতাকার কেন্দ্রে রয়েছে অশোকচক্র, যা সম্রাট অশোক নির্মিত সিংহ শীর্ষযুক্ত অশোকস্তম্ভ থেকে নেয়া।

সম্রাট অশোক হিন্দু-মুসলিম সবার নিকটই শ্রদ্ধেয় হওয়ায় এ অশোকচক্রও গৃহীত হয় সবার নিকট। স্বাধীনতা প্রাপ্তির কয়েকদিন পূর্বে ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই বিশেষভাবে গঠিত গণপরিষদ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে ভারতের জাতীয় পতাকাকে সব দল ও সম্প্রদায়ের নিকট গ্রহণযোগ্য করে হতে হবে।