মাদরাসায় না পড়েও পুরো কোরআন হাতে লিখলেন বাংলাদেশি যুবক

বিশ্বের বহু দেশে পবিত্র কোরআন হাতে লেখার খবর পাওয়া যায়। এবার বাংলাদেশের এক প্রতিভাবান যুবক হুমায়ুন কবির সুমন হাতে লিখেছেন পবিত্র কোরআন। মাদরাসায় না পড়েও প্রবল ইচ্ছা শক্তির জোরেই বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বারড়িয়া গ্রামের হুমায়ুন কবির সুমন আরবি শিখে তিন বছরে পুরো কোরআন হাতে লিখেছেন। ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাস করার পর হুমায়ুন কুরআনুল কারিম লেখার উদ্দেশ্যে আরবি লেখা শেখেন।

অতঃপর ২০০৭ সালে পবিত্র কুরআন হাতে লেখা শুরু করেন। তিন বছরের ব্যবধানে ২০১০ সালে পুরো কোরআন লেখা সম্পন্ন করেন হুমায়ুন। সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় আরবি লেখা শিখে কোরআন লেখা এবং পৃষ্ঠা বিন্যাস ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ক্যালিওগ্রাফিও ব্যবহার করেছেন তিনি। বরিশালের তরুণ প্রতিভা হুমায়ন বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতে লেখা কোরআনের পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে চান তিনি। হুমায়ুন কবির সুমন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বারড়িয়া গ্রামের মো. রজব আলী শিকদারের ছেলে।

নিম্নে আরো পড়ুন: কাউকে ক্ষমা করলে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন

মহান আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। যে অন্যকে ক্ষমা করে তাকেও তিনি ভালোবাসেন।  পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা সুসময়ে ও দুঃসময়ে ব্যয় করে এবং ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল ইমরান, আয়াত: ১৩৪)

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ অন্যের রূঢ় বা কটু কথাবার্তা কিংবা অশোভনীয় আচার-আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকেন। ফলে একে অপরের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। অনেক সময় মতবিরোধ ও মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে পরস্পরের মধ্যে সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন, ‘যদি তোমরা ভালো কিছু প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো অথবা মন্দ ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, ক্ষমতাবান।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৪৯)

ক্ষমাকারীকে আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে পুরস্কার দেবেন। পরস্পরের মধ্যে বিরোধ নিষ্পন্নকারীও আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কার পাবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর মন্দের প্রতিফল মন্দ। অতঃপর যে ক্ষমা করে দেয় এবং আপস নিষ্পত্তি করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ জালিমদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা শুরা, আয়াত: ৪০) ক্ষমা করলে কারো মর্যাদা কমে না। বরং বহু গুণে ক্ষমাশীল ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেন, সদকা করলে সম্পদের ঘাটতি হয় না। যে ব্যক্তি ক্ষমা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হলে, তিনি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮) আল্লাহর রাসূল (সা.) যখন সাহাবি মুয়াজ (রা.) ও মুসা (রা.) কে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন ও আদেশ দেন, ‘লোকদের প্রতি কোমলতা করবে, কঠোরতা করবে না, তাদের সুখবর দেবে, ঘৃণা সৃষ্টি করবে না।

পরস্পর একমত হবে, মতভেদ করবে না।’ (বুখারি, হাদিস: ৩০৩৮) পরিবারিক, সামাজিক ও জীবনের অন্যান্য পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা যাওয়া স্বাভাবিক। তবে এমন হলে, মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো অন্যকে ক্ষমা করে দেয়া। পারস্পরিক ভুল-ত্রুটিগুলোকে শুধরে দেয়া। এতে সম্পর্ক ও বন্ধন আরো মজবুত ও অটুট হয়।