নিহত রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পরিচয়পত্র পেল কিভাবে?

কক্সবাজারের টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এসময় পুলিশ বেশকিছু অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করে। এখন রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদের একটি বাংলাদেশের পরিচয়পত্র (স্মার্ট) কার্ড নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এখন প্রশ্ন উঠেছে কিভাবে নুর মোহাম্মদ স্মার্ট কার্ড পেল?

টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহামুদ আলী জানান, ১৯৯১ সালে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদ হ্নীলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে জাদিমুরা এলাকায় প্রথমে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপ তৈরি করে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে। সে ডাকাতির জন্য দুই বছর জেলও কেটেছে। এরপর সে ধীরে ধীরে সেখানেই জমি কিনে বাড়ির মালিক হন। প্রতিটি ক্যাম্পে স্ত্রী থাকায় তার আধিপত্য বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

রোহিঙ্গা নূর মোহাম্মদের মালিকানায় বাংলাদেশে ৪টি বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে একটি পাকা ভবন, একটি দু’তলা, একটি টিনের ঘর এবং অপরটি বাগান বাড়ি। রয়েছে একাধিক স্ত্রী। এদিকে রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ স্মার্ট কার্ডের বিষয়টি যাচাই করতে রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কক্সবাজার নির্বাচন অফিসের কার্যালয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্মার্ট কার্ডটির নাম্বারটি দিয়ে ওয়েব সাইটে যাচাই করা হলে বেরিয়ে আসে তার সব তথ্য।

সেখানে দেখা যায়, নুর মোহাম্মদ ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ঠিকানায় বাংলাদেশি স্মার্টকার্ড তৈরি করেছেন। কার্ডে নাম দিয়েছেন নুর আলম। পিতার নাম কালা মিয়া এবং মাতার নাম সরু বেগম। জন্ম তারিখ ২৫ নভেম্বর ১৯৮৩ ইংরেজি। এনআইডি নম্বর-৬০০৪৫৮৯৯৬৩। ফরম নম্বর: ৪০৩৬৫৬০৫, শিক্ষাগত যোগ্যতা: ২য় শ্রেণী, ভোটার সিরিয়াল নং: ২১৮৯, ভোটার এলাকা (এরিয়া কোর্ড): বার্মা কলোনী (১৭২২)। তার স্থায়ী ঠিকানা হচ্ছে পশ্চিম ষোলশহর পার্ট-২, হিলভিউ রোড, ৪২১১ পাচঁলাইশ, চট্টগ্রাম বলে উল্লেখ্য করা হয়।

এবিষয় নিয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার শিমুল শর্মা বলেন, অনেক রোহিঙ্গা নানাভাবে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে চায়। কিন্তু কক্সবাজার নির্বাচন অফিস ভোটার হতে অনেক বেশি তথ্য যাচাই-বাছাই করে তাই এখানে সুবিধা করতে পারে না রোহিঙ্গারা। তাই চট্টগ্রামে গিয়ে কোনো না কোনোভাবে এই রোহিঙ্গা বাংলাদেশি ভোটার হয়েছে।

তবে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়টি নজরে থাকার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন খান বলেন, রোহিঙ্গারা ভোটার হতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে চেষ্টা করছে। এনআইডি হয়েছে এরকম কিছু রোহিঙ্গাকে তালিকাভুক্ত করে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। নুর মোহাম্মদ সেই তালিকায় থাকতে পারে। কিন্তু এনআইডিটা ভুয়াও হতে পারে। সেটিও তদন্তের বিষয় রয়েছে।

এরআগে, রোববার সকালে টেকনাফের হ্নীলা জাদিমোরা ২৭নং ক্যাম্পের পাহাড়ি জনপদের বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ভান্ডার উদ্ধার অভিযানে গেলে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় ৪টি এলজি, ১টি থ্রি কোয়াটার, ১৮ রাউন্ড গুলি, ২০ রাউন্ড খালি খোসা। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, নুর মোহাম্মদকে আটক করার পর ভোরের দিকে তাকে নিয়ে জাদিমোড়া এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ।

এ সময় সেখানে ওত পেতে থাকা তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থলে নুর মোহাম্মদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তেরর জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, গুমসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

সূত্র: সময় নিউজ।