বিয়ে বাড়ির খাবার গেল এতিমখানায়

বিয়ে বাড়িতে হানা দিয়ে রান্না করা সকল খাবার জব্দ করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট। পরে তা দেয়া হয়েছে এতিমখানায়। এ সময় বন্ধ করা হয় হয় বিয়ের সকল আয়োজন। কারণ সেটি ছিল বাল্যবিয়ের প্রস্তুতি। ঘটনাটি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের। স্থানীয় সূত্র জানায়, পিরোজপুর গ্রামে সোমবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। কনে স্থানীয় পিরোজপুর উচচ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। অভিভাবকরা ছাত্রীর বিয়ে দিতে সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করেন। দুপুরে রান্নার কাজ শেষ হয়েছিল।

আগত মেহমানদের খাবারে বিলম্ব ঘটছিল বরপক্ষ না আসায়। কিন্তু বরযাত্রী নয় তখন সেখানে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সানজিদা মজুমদার, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মানিক হোসেন প্রধানীয়া ও মেয়েটির বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী। থমকে যায় বিয়ের কাজ। বিকেলে কনের বাড়ির উঠানে বসানো হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাল্যবিয়ের অপরাধ স্বীকার করে ছাত্রীর বাবা মা মুচলেকা দেন।

মেয়েকে ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেবেন না বলে জানান। এ পর্যায়ে আদালত তাদের শাস্তি থেকে মুক্তি দিলেও রান্না করা সব খাবার জব্দ করেন। এরপর তা ছোট ট্রাকে করে পাঠিয়ে দেয়া হয় পাশের পিরোজপুর দারুল উলুম কওমী মাদরাসা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সে। আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া।

শুক্রবার একই আদালত উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের হাটিলা গ্রামে ৯ম শ্রেনীতে পড়া এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে। সেদিন কনের বাবাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।-কালের কণ্ঠ।