৭ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা

বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। আজ শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে বুলবুল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। এ কারণে উপকূলে ৫ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এ অবস্থায় উপকূলবর্তী এলাকার জনগণকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে উপকূলবর্তী সব জেলা ও উপজেলায় প্রায় ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরসহ উপকূলীয় জেলাগুলোর ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ও তার নিয়ন্ত্রণাধীন সব উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার উপকূলের কাছাকাছি ঘূর্ণিঝড়টি অবস্থান করতে পারে। পরে বঙ্গোপসাগরের উত্তর দিক দিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১০ ও ১১ নভেম্বর সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরিশাল, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরে ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ ক্রমেই শক্তি সঞ্চার করে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শুরুর দিকে ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮০-৯০ কিলোমিটার। যা শুক্রবার দুপুর থেকে ক্রমশই শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়া ‘বুলবুল’ এখনই উপকূলে আঘাত হানলে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে বহু সংখ্যক ঘরবাড়ি। কেননা এরইমধ্যে এর গতিবেগ বেড়ে হয়েছে ১৩০ কিলোমিটার।

গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল বুলবুল।

বাংলাদেশের আবহাওয়া দফতর বলছে, ঐ সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছিল।

আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানায়, প্রবল বেগে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র কারণে দেশের মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ও তদসংলগ্ন এলাকায় ৭ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। তবে দেশের প্রধান নৌ-বন্দর চট্টগ্রামে জারি করা হয়েছে ৬ নম্বর সতর্কতা সংকেত। সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’র কারণে সারাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। আজ শুক্রবার বিআইডব্লিইটিএ’র ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক (ট্রাফিক) আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।