বৃক্ষরোপণের জন্য আজ তুরস্কে জাতীয় ছুটি

বিশ্বে এই প্রথম কোনো দেশ জাতীয় বৃক্ষরোপন দিবস ঘোষণা করল। ১১ নভেম্বর দিনটিকে সবুজায়ন বা বৃক্ষরোপন দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে তুরস্ক সরকার। গাছ বসানোর জন্য এই দিনে জাতীয় ছুটিও ঘোষণা করেছে ইউরেশিয়ার মুসলিম প্রধান দেশটি। সেই হিসেবে আজ তুরস্কের জাতীয় ছুটি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে ২১ মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক বৃক্ষ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসঙ্ঘ। তবে বৃক্ষরোপন দিবস কোনো দেশে পালিত হয় না। শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়‍্যেপ এরদোগান এই দিনটির ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন, প্রতিবছর ১১ নভেম্বর দেশজুড়ে কয়েক কোটি মানুষ নিজ নিজ জায়গায় অন্তত একটি হলেও গাছের চারা বসবেন। ফলে এক দিনে তুরস্কে গাছের সংখ্যা কয়েক কোটি বেড়ে যাবে।

তার কথায়, বিশ্বজুড়ে উষ্ণয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের দরুন অপূরণীয় ক্ষতি ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে সমগ্র মানবসভ্যতা। তাই প্লাস্টিকের ব্যবহার ও বায়ু দূষণ কমানোর পাশাপাশি সব দেশকে নিবিড় বৃক্ষরোপন কর্মসূচি নিতেই হবে।পাশাপাশি পরিবেশ, প্রকৃতি ও পৃথিবীকে মানুষের বাসযোগ্য রাখার লক্ষ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি এও বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ আমাদের জন্য অফুরান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদ দিয়েছেন। আল্লাহর এসব নিয়ামত রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই। অথচ আমরাই যদি সেগুলোর পরিচর্যা না করে উল্টা ধ্বংস করি, তাহলে মানবজাতি অস্তিত্বের সংকটে পড়বে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট এও বলেন, সবকিছু আইন করে হয় না। আমাদের বিবেকের মূল্যবোধ সম্পন্ন করতে হবে।প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে মানবিক ও প্রাকৃতিক দায়বদ্ধতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই চেতনার উন্মেষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসবে, যদি আমরা প্রকৃত মুসলিম হই। তাহলে আমাদের মধ্যে এই বোধ জাগ্রত হবে যে, আল্লাহর সৃষ্টিরাজিকে নষ্ট বা ধ্বংস করার কোনো অধিকার আমাদের নেই।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমরা যতই চাঁদে ,মঙ্গলে, মহাকাশে অভিযান করি না কেন, একটা নদী, সমুদ্র, পাহাড়,মরুভূমি কিংবা মালভূমি বানানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। জোয়ার-ভাটা, দিন-রাত,অমাবস্যা-জ্যোৎস্না, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, খরা-বন্যা , ভূমিকম্প ইত্যাদির ওপর মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

চাঁদ, সূর্য, তারা , আকাশ, বাতাস, গ্রহ-নক্ষত্র আমরা তৈরি করতে পারব না। গাছপালা, লতাগুল্ম আমরা ল্যাবরেটরিতে তৈরি করতে পারব না। অথচ পৃথিবীকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এগুলো সবই অপরিহার্য। তাই আমাদের করণীয় হল আল্লাহর এসব নিয়ামতের শোকর আদায় করা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় যত্নবান হওয়া। যাতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত না হয়। এরদোগানের কথায়, মনে রাখতে হবে আমরা এই পৃথিবীর স্বেচ্ছাসেবক মাত্র। তাই প্রতিটা মানুষকে পরিবেশ বান্ধব হতে হবে।

সূত্র : টিডিএন