যেখানে চল্লিশে হাতে লাঠি, পঞ্চাশেই মারা যায় মানুষ

স্বাধীনতার বয়স ৭২ পার হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চকরুটোলায় কোনো বাহাত্তরের দেখা মিলবে না। এখানে পঞ্চাশেই ফুরিয়ে যায় আয়ু।শুধু তাই নয়, ভয়ে এই এলাকায় মেয়ের বিয়ে দেন না বাইরের মানুষ। এখানকার মেয়েদেরও শাদি হয় না অন্যত্র।আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চকরুটোলা ডালটনগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে। কোয়েল নদী থেকে তিন কিলোমিটার দূরের কৌড়িয়া পঞ্চায়েতের এই টোলায় বাস করেন হাজার তিনেক আদিবাসী।

টোলায় এমন কোনো বয়স্ক মানুষ নেই, যিনি সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন। চল্লিশের ওপরে সবার হাতে লাঠি। শিশুদের দাঁত হলুদ বর্ণের।সহনমাত্রার অন্তত চার গুণ বেশি (৪.২ মিলিগ্রাম প্রতি লিটারে) ফ্লোরাইড মিশ্রিত বিষ-জল খেয়ে টোলার প্রতিটি পরিবারেরই কেউ না কেউ পঙ্গু।ফ্লোরাইড বিশেযজ্ঞরা জানান, শুধু চকরু-ই নয়, পলামু জেলার ৪৮টি গ্রাম আর গরওয়া জেলার ২৭৭টি গ্রামের ভূগর্ভস্থ জলে বিপজ্জনক মাত্রায় ফ্লোরাইড রয়েছে। দেশের ফ্লোরাইড-দূষণ মানচিত্রের অন্যতম বিপজ্জনক জায়গা পলামু।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চকরুটোলায় ভোটের প্রচারে বিজেপির নেতারা এসে রামমন্দির তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন। গত পাঁচ বছরে তাঁদের আমলে ঝাড়খণ্ডের আদিবাসীদের কত উন্নয়ন হয়েছে, তার ফিরিস্তিও দিয়েছেন। কংগ্রেস নেতারাও বলেছেন, ক্ষমতায় এলে সব পরিবারকে বছরভর টাকা দেবেন।

তথ্য সূত্র : জুম বাংলা