খারাপ কোলেস্টেরলে যেসব রোগ হয়

শরীর গঠনে অন্যান্য উপাদানের মত চর্বি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোটি কোটি দেহকোষের প্রাচীর, বহুসংখ্যক হরমোনসহ অসংখ্য শরীরবৃত্তীয় ক্রিয়া বিক্রিয়ার অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হল কোলেস্টেরল।কোলেস্টেরল চার প্রকার। কোলেস্টেরল, লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন বা এলডিএল, হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন বা এইচডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড। এর মাঝে এইচডিএল ভালো কোলেস্টেরল। বাকি তিনটিকে বলা হয় খারপ কোলেস্টেরল।

বাংলাদেশ কমিউনিটি হেলথ ফাউন্ডেশনের সাবেক নির্বাহী সভাপতি ও কমিউনিটি মেডিকেল কলেজের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ডাক্তার খন্দকার মো. আনোয়ারুল হক এ সম্পর্কে বলেন, শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল দেহেই তৈরি হয়। খাদ্যে কোলেস্টেরল যোগ করার প্রয়োজন হয় না। সব কোলেস্টেরল রক্তে কম হলেই ভালো তা নয়। রক্তে এইচডিএল কোলেস্টেরল বেশি হলে ভালো। এইচডিএল কোলেস্টেরল প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ৬০ মিলিগ্রাম এইচডিএল বা এর বেশি হলে তা হূদরোগের ঝুঁকি অনেক কমিয়ে দেয়। হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো ঝুঁকিপূর্ণ রোগের জন্য রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল দায়ী।

তিনি বলেন, আর এলডিএল কোলেস্টেরলকে বলে খারাপ কোলেস্টেরল। এটি রক্তে বেশি থাকলে হতে পারে এথারোস্ক্লেরোসিস। খুব বেশি এলডিএল রক্তে থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এলডিএল মান ১৩০ মিলিগ্রাম/ ডিএল এর বেশি হলে বলা হয় উচুমান এলডিএল। এর মাত্রা বেড়ে গেলে ধমনীর দেয়াল পুরু হয়ে শক্ত জমাট বাঁধে, যাকে বলে প্লাক। ধমনীপথ সংকীর্ণ হতে থাকে, দেয়াল শক্ত হতে থাকে তাই ক্রমে ক্রমে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ ক্ষীন হতে থাকে। ফলে এথারোস্ক্লেরোসিস বা হার্ট এ্যাটাক ও স্ট্রোকের হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

ডা. আনোয়ার বলেন, রক্তের এলডিএল কমাতে হলে খাবারের অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। আঁশযুক্ত খাবার বেশি খেতে হবে। ওটমিল হলো দ্রবনীয় আঁশের শ্রেষ্ঠ উত্স। বীনস ও অনেক ফলেও আছে দ্রবনীয় আঁস। আছে সবজিতেও, এগুলো খাওয়ার অভ্যাস বাড়াতে হবে। চর্বি জাতীয় খাবার ও লাল মাংস ছাড়তে হবে।

এছাড়া নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হবে। ব্যায়াম বা অন্যান্য নিয়মিত শরীর চর্চা কমায় খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল এবং বাড়ায় ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল। ধূমপান ও অ্যালকোহল অবশ্যই বর্জন করতে হবে।