বাংলাদেশের হজ কোটা বাড়াল সৌদি

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য ১০ হাজার হজ কোটা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। সে হিসেবে এ বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯১ জন হজপালন করার সুযোগ পাবেন। বুধবার সকালে মক্কায় সৌদি সরকার ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ২০২০ সালের হজ চুক্তির প্রথম বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদিত হয় বলে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হক সৈকত নিশ্চিত করেছেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌদি আরবের হজ ও উমরা প্রতিমন্ত্রী ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ বিন সোলায়মান মাশাতের নেতৃত্বে সৌদি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বৈঠক করেন। প্রতিমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব তুলে ধরেন তার মধ্যে রয়েছে- হজযাত্রীর কোটা বাড়ানো, রুট টু মক্কা ইনিসিয়েটিভের আওতায় শতভাগ হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন বাংলাদেশে করা এবং হজ শেষে দেশে ফেরার সময় জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে হাজিদের ইমিগ্রেশন সহজ করা, হাজিরা যাতে ৪২ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিনের কম সময়ে দেশে ফেরত যেতে পারেন সে ব্যবস্থা ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা।

সেই সাথে সৌদি আরবে বাংলাদেশি হাজিদের খাওয়া-থাকাসহ সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, কালো তালিকাভুক্ত বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর তালিকা দ্রুত প্রকাশ, হাজিদের জন্য বাধ্যতামূলক খাবার সরবরাহের প্রথা বন্ধ এবং মিনায় উন্নতমানের বাংলাদেশি খাদ্য পরিবেশন ও আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি হজের সময় বাংলাদেশে আইন লঙ্ঘন করে সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকিট বিক্রির স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, হাজি পরিবহনে বাস সেবা উন্নত করা এবং ট্রেন পরিবহন সেবা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

মুসলিম জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের অনুকূলে সৌদি কর্তৃপক্ষ হজ কোটা বরাদ্দ দেয়। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজপালনের সুযোগ পেয়ে আসছেন। এবারের হজ চুক্তিতে বাংলাদেশের বর্তমান মুসলিম জনসংখ্যার ভিত্তিতে অতিরিক্ত বিশ হাজার বাংলাদেশী হজযাত্রীর হজের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। সে দাবি মেনে এবার ১০ হাজার কোটা বাড়ানো হল।

২০২০ সালের সৌদি-বাংলাদেশ হজচুক্তির উদ্দেশে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল রোববার সন্ধ্যায় সৌদি আরব পৌঁছান। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমান, হজ্জ এজেন্সীজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর সভাপতি এম. শাহাদাত হোসাইন তসলিম।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত গোলাম মসিহ, কনসাল জেনারেল, জেদ্দা এফএম বোরহান উদ্দিন, কাউন্সেলর (হজ) জেদ্দা মো. মাকসুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২০ সালে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে ১ আগস্ট। বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে ২৫ জুন।