নেতাকর্মীদের নিয়ে তালা ভেঙে নিজ কক্ষে ভিপি নুর

‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামের সংগঠনের নেতাকর্মীদের দেওয়া তালা ভেঙে পাঁচ ঘণ্টা পর নিজ কক্ষে প্রবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে ফেলেন ভিপি নূর। এসময় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আক্তার হোসেন, সংগঠনের যুগ্ম-আহবায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন, ফারুক হাসানসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে, বেলা ১১টার দিকে তার কক্ষে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। নুরের দাবি, তালা খোলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েও তিনি পাননি। পরে নিজেই তালা ভেঙে নিজ কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা জানান, নেতাকর্মীদের নিয়ে ভিপি নুর প্রথমে তালা ভাঙতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা না পেয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে তালা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন নুর।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মো. রাশেদ খান জানান, প্রক্টরকে তালা খুলে দেওয়ার জন্য তার অফিসে গেলে তিনি ভিপি ও আমাদের সাথে অশোভন আচরণ করে। এমনকি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র হওয়ার পরেও আমাদের অছাত্র বলে আখ্যায়িত করেন।তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছে তালাবদ্ধ কক্ষে প্রবেশের সহায়তা চাওয়ার পরেও কোন সহায়তা না পেয়ে অবশেষে ভিপি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে তালা ভেঙে তার রুমে প্রবেশ করেন।

নুরের একটি ফোনালাপ ফাঁসের জের ধরে তার রুমে তালা লাগানো হয়। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের অভিযোগ, গণমাধ্যমে নুরের যে ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে, সেখানে নুর অনৈতিক অর্থ লেনদেনের কথা বলেছেন। এমন অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার দায়ে সে আর পদে থাকতে পারে না। তবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের এসব নেতাদের ছাত্রলীগের একটি অংশ দাবি করে নুর বলেন, যদি তারা অনৈতিক লেনদের প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই পদত্যাগ করবো।

প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাকসুর একটি নিজস্ব নির্বাহী বডি আছে। আমি ভিপিকে বলেছি কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে।তবে কোষাধ্যক্ষ ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম ভিপি নুরের ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেন নুর। তিনি বলেন, তাকে অনেকবার ফোন দিয়েছে। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। নিরুপায় হয়ে তালা ভেঙে ডাকসুতে নিজের রুমে ঢুকি।

এদিকে নুরের রুমে তালা লাগানোর আগে তারা নুরের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে। পরে নুরের কুশপুত্তলিকা দাহ করে।