খেলায় বাধা পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ শিশু থানায়

ঘরের পাশে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে প্রতিবেশী দুই নারীর বাধা পেয়েছে সাত বছরের এক শিশু। নাম তার আহম্মেদ বিন কাদেরী। দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়া এ শিশু ঘটনার মৌখিক প্রতিবাদ করলে শুনতে হয়েছে গালিগালাজ। এ অবস্থায় ক্ষু’দ্ধ কাদেরী ছুটে গিয়েছে নিকটস্থ থানায়। অবশেষে পুলিশ পৌছে দুই নারীকে সতর্ক করলে তবেই শান্ত হয়েছে সে। ঘটনাটি নাচোল পৌর শহরের।

নাচোল থানার পরিদশর্ক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে দুই নারীর বি’রুদ্ধে থা’নায় অভি’যোগ করতে আসে শিশু কাদেরী। একাই এসেছিল সে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ষ্টেশনপাড়া এলাকায় খেলা করতে গেলে মমতাজ বেগম ও মাসুদা বেগম নামে দুই নারী তাকে নিষেধ করে। মহল্লার মধ্যে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে কেন নিষেধ করা হচ্ছে তা জানতে চায় কাদেরী। তখন দুই নারী তাকে অ’শ্লীল ভাষায় গালি’গালাজ করেছেন বলে কাদেরী জানায়।

অপমা’নজনক এ আচরণের প্রতিকার চেয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করে শিশুটি। কথাগুলো বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে শিশুটি কেঁদে ফেলে। ব্যতিক্রমী এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক বিচলিত হলেও দ্রুত পদক্ষেপ নেন। শিশু কাদেরীর সঙ্গে পুলিশের এসআই পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। অভিযুক্ত দুই নারীকে চুড়ান্তভাবে সতর্ক করা হয়। এরপর শিশু কাদেরী পুলিশকে বিদায় জানায়।

পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চাকুরী জীবনে এমন পরিস্থিতিতে পড়িনি কখনো। অল্প বয়সী একটা ছেলে তার অধিকার প্রশ্নে একাই থানায় পৌছেছে। গুছিয়ে অভি’যোগ করেছে। তা শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েছিলাম। ঘটনার বিচার চেয়ে সে কাঁদছিল। ঘটনা মনোযোগ সহকারে শুনে এরপর ব্যবস্থা নিয়েছি।’ আলোচিত শিশু আহম্মেদ বিন কাদেরী নাচোল ঘিওন গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। পড়ছে নাচোল পৌর শহরের এশিয়ান স্কুল এ্যান্ড কলেজে।

দ্বিতীয় শ্রেণীর এ শিক্ষার্থী লেখাপড়ার সুবিধার্থে থাকে নাচোল রেল ষ্টেশনপাড়ায় নানীর কাছে। খেলার অধিকার নিয়ে শিশু বিদ্রোহের ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মুখে মুখে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ অনলাইন।