‘ফুলের রাজধানী’ গদখালী ঘুরুন, মিস করবেন না খেজুর রসও

ভোরেই পা রাখলাম গদখালীতে। জায়গাটা ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। গদখালীতে আসা ফুলগুলো যশোর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঝিকরগাছা ও শার্শা থানার ৯০ টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমিতে চাষ করা হয়। গ্রামগুলোর রাস্তার দু’পাশে দিগন্ত বিস্তৃত জমিতে লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি আর সাদা রঙের ফুলের সমাহার দেখে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকতে হয়। এছাড়া ফুলের সুঘ্রাণ, মৌমাছির গুঞ্জন, আর রঙিন প্রজাপতির ডানায় ভর করে এখানে আসে চিরন্তন সুন্দরের বার্তা।

দেশের ফুলের চাহিদার ৭০ শতাংশ আসে গদখালী থেকেই। যেদিকে তাকাবেন শুধুই ফুল। গদখালী বাজার থেকে সকালেই ভ্যানে চড়ে চলে যাবেন ফুলের রাজ্যে। ভ্যান যতো সামনে এগোবে, চারপাশের জায়গাগুলো সবুজের পরিবর্তে লাল, নীল, হলুদ কিংবা সাদা হয়ে উঠবে! চোখ আটকাবে দুই ধারে। দেখলেই মনে হবে, হরেক রকমের রঙিন চাদর বিছিয়ে রেখেছে দিগন্তজুড়ে। ফুলের মানুষগুলাকে দেখেও বেশ লাগছিল।

কেউ ফুল কাটছে, কেউ নিড়ানি দিচ্ছে; আবার অনেকে ভ্যান-সাইকেলে করে বাজারে নিয়ে যাচ্ছে। এসব ফুলই একসময় যাবে আপনার প্রিয় মানুষের হাতে! ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের পানিসারা, হাড়িয়া, কৃষ্ণচন্দ্রপুর, পটুয়াপাড়া, সৈয়দপাড়া, মাটিকুমড়া, বাইসা, কাউরা ও ফুলিয়া গ্রামের প্রতিটি মাঠের চিত্রই এমন। শত শত বিঘা জমি নিয়ে গাঁদা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, কসমস, ডেইজি জিপসি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ আরো বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ। মনে হবে সুন্দর বাংলাদেশের বুকে এক টুকরো স্বর্গ।

ফুলের তীব্র সুগন্ধ, অসংখ্য মৌমাছি-প্রজাপতিদের উড়ে যাওয়া দৃশ্য মন কেড়ে নিবে। এখানকার ফুল চাষিদের মনটা ফুলের মতোই সুন্দর। যে কোনো বাগানে ঢুকে ইচ্ছে মতো ঘুরে বেড়ান, ছবি তুলুন, পছন্দমতো কয়েকটা ফুল তুলুন; কেউ কিছু বলবে না। বরং আপনার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি একটা হাসি দিবে। তবে ফুলের বাগানে ঢোকার আগে অবশ্যই চাষিদের অনুমতি নিবেন।

শীতের সকালে ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে গ্রামের রাস্তায় হাঁটাও একটা আনন্দময় ব্যাপার। সেই সময়ে খেজুরের রস খুঁজছিলাম। অনেকটা নিশ্চিত ছিলাম পাবো না। পথে হঠাৎ একটা গাছে খেজুর কলসি দেখে দাঁড়ালাম। পাশেই একটা লোক দাঁড়ানো, তাকে জিজ্ঞেস করলাম- এখানে রস পাওয়া যাবে? -রস মনে হয় বেশি হয় নাই। খাবেন? -আমরা বেশি খাবো না। এই একটু! -আরে খান, আমাদেরই গাছ। সমস্যা নেই।

তড়িঘড়ি করে গাছ থেকে কলসি নামিয়ে দেখলেন রস জমলো কি-না। ছেকে দুই গ্লাসে রস ঢেলে দিলেন। দু’টা গ্লাসই ভরল দেখে খুব খুশি হলেন। আমরা তখনো পথে দাঁড়িয়ে।গদখালী যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় জানুয়ারি মাস। ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও আকাশপথে যশোর যাওয়া যায়। যশোর বাস স্ট্যান্ড থেকে রিকশা নিয়ে চলে যান লোকাল বাস স্ট্যান্ডে। এখান থেকেই পেয়ে যাবেন গদখালী যাবার বাস। গদখালী নেমে ক্ষেত দেখার জন্য ভ্যান নিয়ে নিতে পারেন।

গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাবার সময় রাস্তার দু’পাশে চোখে পড়বে ফুলের ক্ষেত। বাসস্ট্যান্ডের রাস্তার পাশেই সকালে বসে দেশের সবচেয়ে বড় ফুলের পাইকারি বাজার। থাকার জন্য যশোর শহরকেই বেছে নিতে হবে। সেখানে থাকা এবং খাবারের জন্য হোটেল পেয়ে যাবেন। আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল আমিন এবং হোটেল মিডটাউন উল্লেখযোগ্য।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ