একের পর এক বি’স্ম্ফোরণ সূর্যে

কোনো পূর্বাভাসই নেই। আচমকা একের পর এক ভয়’ঙ্কর বি’স্ম্ফোরণে তোলপাড় হয়ে গেল সূর্যের বায়ু’মণ্ডলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। সূর্যের কেন্দ্র থেকে প্রায় পৌনে এক কোটি কিলোমিটার দূরে এর বায়ু’মণ্ডল বা করোনা এলাকায় যে এমন ঘটে তা এতদিন জানা ছিল না বিজ্ঞানীদের। এই প্রথম এর প্রমাণ পেলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পাঠানো সোলার ডায়না’মিক্স অবজারভেটরির (এসডিও) মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য বিশ্নেষণ করেই সাম্প্রতিক এই বি’স্ম্ফোরণের প্রমাণ পান তারা।

তাদের গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (আইআইটি) অধ্যাপক অভিষেক শ্রীবাস্তব এ গবেষণার নেতৃত্ব দেন। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারই ছাত্র সুধীর কে মিশ্র, আর্যভট্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব অবজারভেশনাল সায়েন্সের (এরিস) বিজ্ঞানী দীপঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অনেকে।

গবেষক দীপঙ্কর বলেন, সূর্যের করোনা এলাকায় চৌম্বক ক্ষেত্রের একটি সুবিশাল মেঘকে তারা আচমকা ভেঙে পড়তে দেখেছেন। এটা ভেঙে পড়েছে খুব কাছে থাকা কয়েকটি চৌম্বক ক্ষেত্রের ওপর। এতে এই চৌম্বক ক্ষেত্রগুলো ভয়’ঙ্করভাবে কেঁপে উঠেছে। শুধু তাই নয়, এদের পুরোপুরি ধ্বং’সও করে দিয়েছে সেই সুবিশাল মেঘ। ফলে জন্ম নিয়েছে বিপুল পরিমাণ শক্তি। পশ্চিমবঙ্গের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের সৌর পদার্থবিজ্ঞানী দিব্যেন্দু নন্দী বলেন, সূর্যের বায়ুম লে এমন বি’স্ম্ফোরণের কথা বিজ্ঞানীদের আগে জানা ছিল না।

১৫ বছর আগে যদিও তাত্ত্বি’কভাবে এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল, তবে এর আগে কেউই এমনটি দেখতে পাননি। গবেষক দীপঙ্কর ও দিব্যেন্দু দু’জনেই জানান, এ ধরনের বি’স্ম্ফোরণের নিশ্চিত কারণ এখনও জানা সম্ভব হয়নি। এ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে হলে এমন আরও বহু ঘটনা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। গবেষকরা আশা প্রকাশ করেন, করোনা এলাকার তাপমাত্রা হঠাৎ করে সূর্যের পিঠ বা ফোটো’স্ম্ফিয়ারের চেয়ে কেন প্রায় ১০ লাখ গুণ বেড়ে যায়, তা বুঝতে এই ঘটনা হয়তো সাহায্য করবে।

তারা বলেন, করোনার ওই অংশে এমন ভয়’ঙ্কর বি’স্ম্ফোরণ খুবই দ্রুত ঘটে। যেন একটা বোমার স্পি’ল্গন্টার ছিটকে গিয়ে কাছেই থাকা আর একটা শক্তিশালী বো’মা ফাটিয়ে দিচ্ছে। এটা অভাবনীয় ঘটনা। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।