সেনাপতি নয়, সৈনিক হিসেবেই নিজেকে পরিচয় দিতেন সোলাইমানি

মার্কিন হা’মলায় নি’হত ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি’র কুদস ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেনাপতি ও রণ-কৌশলী হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তার অধিকারী ছিলেন। তবে তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও নম্র স্বভাবের মানুষ। তিনি প্রায়ই বলতেন, আমাকে কেউ সেনাপতি বলবেন না কারণ আমি একজন সাধারণ সৈনিক মাত্র।

দেশের জন্য প্রাণ দিতে সব সময় প্রস্তুত ও ব্যাকুল এই মানুষটি মৃ’ত্যুর অনেক আগেই ওসিয়তনামা লিখে রেখেছিলেন। ওসিয়তনামার একাংশে আল্লাহ ভীরু সোলাইমানি লিখেছিলেন, আট বছরের প্রতি’রোধ যু’দ্ধের সময় নি’হত হওয়া তার সহযো’দ্ধাদের কব’রের পাশেই যেন তাকে দাফন করা হয়। এছাড়া তার কবরকেও যেন ওইসব সহযো’দ্ধাদের কবরের মতই সাধারণ রাখা হয়। আর তার কবরের ফলকে বড় কোনো বিশেষণ না লিখে শুধু যেন ‘সৈনিক কাসেম সোলাইমানি’ লেখা হয়।

সোলাইমানি ইরানের ওপর মার্কিন উ’স্কানিতে চাপিয়ে দেয়া ইরাকের ৮ বছরের যু’দ্ধের সময় নি’হত হওয়া তার সহযো’দ্ধাদের কথা স্মরণ করে প্রায়ই অ’শ্রু-সজল হতেন এবং তাদের সঙ্গে মৃ’ত্যুবরণ করতে পারেননি বলেও গভীর দুঃখ প্রকাশ করতেন। নি’হত সেই যো’দ্ধারা ছিলেন ‘সারাল্লাহ’ অথবা ‘আল্লাহর কুরবানি’ নামক একটি বিশেষ ইউনিট বা গ্রুপের সদস্য। এই গ্রুপের সদস্য হিসেবেই সোলাইমানি বেশ কয়েকটি অভিযানে সফল কমান্ডার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

পরবর্তীকালে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের কমান্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। ইহু’দিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের হাত থেকে মুসলিমদের প্রথম কিবলা অর্থাৎ আল-আকসা মসজিদসহ পবিত্র শহর বায়তুল মোকাদ্দাসকে মুক্ত করাই কুদস ফোর্সের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

সূত্র: পার্সটুডে