ছেলের বিয়ের আগেই কনের মাকে নিয়ে উধাও বরের বাবা

সবকিছুই ঠিকঠাক। চলছে বিয়ের প্রস্তুতি। নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছেন দুই তরুণ-তরুণী। তবে দু’জনের স্বপ্নকে ধুলি’সাৎ করে দিয়েছেন তাদের অভিভাবকরাই। চলতি বছরের ফ্রেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ওই পাত্র-পাত্রীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছেলে-মেয়ের বিয়ের আগেই ৪৬ বছর বয়সী কনের মাকে নিয়ে পালালেন ৪৮ বছর বয়সী বরের বাবা।সম্প্র’তি ভারতের গুজরাটের সুরাটে এমন ঘটনা ঘটেছে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, কলেজ জীবনে তারুণ্যের দিনগুলোতে ওই বরের পিতা (৪৮) ও তার বহু স্ত্রীর মায়ের (৪৬) মধ্যে প্রেম ছিল। ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সপ্তাহে তাদের সন্তানদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা বাস্তবে রূপ পাওয়ার আগে তাদের মধ্যে পুরনো ভালবাসা জেগে ওঠে। বিগলিত হয় মন। তারপর দু’জনেই একে অন্যের হাতে হাত রেখে পালিয়ে যান। এর ফলে ১০ দিনের বেশি তারা কোথায়, তা কেউ বলতে পারছেন না।

হবু ওই বরের বাড়ি কাতারগাম এলাকায়। আর কনের বাড়ি নাভসারিতে। তাদের পিতা ও মাতা কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে হঠাৎ উধাও। জোরালোভাবে বিশ্বাস করা হচ্ছে যে, পুরনো চাল যেমন ভাতে বাড়ে, তেমনি পুরনো প্রেম তাদেরকে আন্দো’লিত করেছে। তারা নিজেদেরকে সামাল দিতে পারেন নি। পরিবার পরিজন ফেলে পালিয়েছেন। এর ফলে পরিবারের অন্য সদস্যরা পড়েছেন বিব্র’তকর অবস্থায়। উভয় পরিবারই এ বিষয়ে পুলিশের দ্বা’রস্থ হয়েছে।

হবু বর ও কনের মধ্যে এনগে’জমেন্ট হয়ে গেছে এক বছর আগে। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তাদের বিয়ের আয়োজন চলছিল। নিজেদেরকে তারা সেভাবে প্রস্তুত করছিলেন। কিন্তু বিনা মেঘে যেন ব’র্জ্রপাত ঘটে গেছে। বিয়ের এখন প্রায় এক মাস বাকি। কিন্তু এ অব’স্থায় বরের পিতা ও কনের মার এই পলায়ণ সবাইকে হ’তবাক করেছে।

বরের পিতা রাকেশ (পরিবর্তিত নাম) একজন পোশাক ব্যবসায়ী। গত ১০ই জানুয়ারি থেকে তার টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিজের আমরেলি জেলায় তিনি একটি রাজ’নৈতিক দলেরও সদস্য। কনের মা স্বাতীকে (পরিবর্তিত নাম) তিনি চিনতেন টিনেজ বয়স থেকে। কাতারগাম এলাকায় তারা ছিলেন প্রতিবেশী। তাদের মধ্যে ছিল বন্ধুত্ব। উভয় পরিবারের আ’ত্মীয় এমন একজন বলেছেন, ওই সময় থেকেই তারা একে অন্যকে চিনতেন। তারা একই সমাজে বসবাস করতেন।

তাদের ঘ’নিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু আমাদেরকে নিশ্চিত করেছেন যে, তারা পালিয়ে গেছেন। কারণ, তাদের মধ্যে আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল। যদিও বর্তমান স্বামীর সংসার করছিলেন স্বাতী। তিনি ভবনগর জেলার একটি পরিবারের মেয়ে। কাতারগাম এলাকায় একজন ডায়ম’ন্ড শিল্পীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরে তিনি ব্রো’কার হিসেবে উপার্জনের পথ খোঁজেন। তাদের এই পলায়ণ এখন সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের ছবি সেখানে খুব বেশি শেয়ার দেয়া হচ্ছে।-একুশে টেলিভিশন