গরিব রো’গীদের ভাড়া নেন না এই ‘সবুজ বাগান’ সিএনজিচালক

সাত রকমের ফুলের গাছ ও ফুল। চারদিকে কৃত্রিম ঘাস। দেখেই যেন মনে হয় ছোট একটি সবুজ ফুলের বাগান! তবে এটি বাগান নয়, সিএনজিচালিত অটোরিকশার উপরের অংশ। পরিবেশ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেই এমনভাবে অটোরিকশাটি সাজিয়েছেন চালক তপন চন্দ্র ভৌমিক। রাজধানীর খিলগাঁও ও গোড়ান এলাকার অসহায়, গরিব রো’গী ও গ’র্ভব’তী মায়েদের মেডিকেলে যাতায়াত হলে কোনো টাকাও নেননা তিনি।

বুধবার বিকেলে মোহাম্মদপুরে দেখা যায় তার এ সিএনজিচালিত সবুজ রঙের অটোরিকশাটি। বাইরে ফুল গাছ আর ফুল থাকলেও ভেতরে দেখা যায় বাজরিগার পাখি, অ্যাকোয়ারিয়ামসহ অন্তত ১০ ধরনের টুকিটাকি জিনিস। অটোরিকশাকে এভাবে সাজানোর কারণ সম্পর্কে তপন চন্দ্র ভৌমিক বলেন, মানুষ এখন আর গাছপালা, বাগানকে তেমন একটা গুরুত্ব দিয়ে করে না। এজন্য প্রাকৃতিক বিপ’র্যয় ঘটছে। মূলত মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই আমার এমন উদ্যোগ।

গরিব রো’গীর যাতায়াত ভাড়া না নেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানবিকতা থেকেই আমি খিলগাঁও ও গোড়ান এলাকার গরীব রো’গী ও গ’র্ভব’তী মায়েদের মেডিকেলে যাতায়াত ভাড়া নেই না। কারণ, মানুষ মানুষের জন্য। ভবিষ্যতে রাস্তায় ব’স্ত্রহীনদের (মানসিক রো’গী) বস্ত্র দেয়ার পরিকিল্পনা আছে আমার।  খিলগাঁওয়ের গোড়ানে পরিবার নিয়ে থাকেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছা’রামপুর উপজেলার তপন চন্দ্র। তার এক ছেলে ও দুই মেয়ে।

আগে অলংকারশিল্পী থাকলেও চোখে সমস্যা হওয়ায় কাজ ছেড়ে প্রায় ১০ বছর ধরে চালকের পেশায় আছেন। ভাড়ায় চালিত অটোরিকশাটি তপন চন্দ্রের নিজের না। দিনশেষে যা আয় হয় তার একটি নির্দিষ্ট অংশ দিতে হয় মালিককে। বাকি আয়ের একাংশ খরচ করেন গাছগুলোর র’ক্ষণাবেক্ষণে। তিনি জানান, সবুজ বাংলা নামের একটি নার্সারি তাকে মাঝেমধ্যে বিনামূল্যে এসব গাছ দিয়ে থাকেন।

বিশেষ কোনো ইচ্ছে বা স্বপ্ন আছে কিনা-জানতে চাইলে তপন চন্দ্র ভৌমিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি কাছ থেকে তাকে একটু দেখতে চাই। তার সাক্ষাৎ পেলে নিজেকে ধন্য মনে করবো।-ডেইলি বাংলাদেশ