তীব্র গতিতে বের হচ্ছে গ্যাস, আত’ঙ্কে কসবাবাসী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় একটি স্কুলে নলকূপ বসানোর সময় সেখান থেকে তীব্র গতিতে গ্যাস বের হচ্ছে। নিয়’ন্ত্রণহীন গ্যাসের চাপে আত’ঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।বৃহস্পতিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার বিদ্যানগর এলাকার শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিষয়টি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে এক নজর দেখতে উপস্থিত হন নানা বয়সী মানুষ।

এ সময় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার পরামর্শ দেন আই’নশৃঙ্খলা র’ক্ষাবাহিনীর সদস্যরা। এর আগে, বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কসবা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম বিদ্যানগর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে নলকূপের পাইপ দিয়ে তীব্রগতিতে গ্যাস বের হওয়া শুরু হয়। এ ঘটনার পর আত’ঙ্কে বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাল পতাকা উড়িয়ে পুরো এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রামে কেউ যাতে চুলায় আ’গুন না ধরান সে বিষয়ে মাইকে প্রচার করে সাবধান করে দিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঘটনাস্থ’লে গিয়ে দেখা যায়, পানি ও বালিতে শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরে গেছে। গ্যাসের গন্ধে পুরো এলাকায় এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শত শত মানুষ বিদ্যালয়ের দেয়ালের চারপাশে ঘিরে আছেন।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ও বায়েক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল মামুন ভুইয়া জানান, বিদ্যালয়ের পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি গভীর নলকূপ বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ পাওয়া ওই গভীর নলকূপটি গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ১৫ জন শ্রমিক বসানোর কাজ শুরু করেন। মঙ্গলবার রাতে ৫৪০ ফুট খননের পর বালি ও পানির স্তর পাওয়া যায়।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকরা সেখানে পানির ফিল্টার পাইপ স্থাপনের জন্য পাইপ উত্তো’লনের সময় গ্যাস, পানি ও বালির চাপে পাইপ উপড়ে যায় এবং শ্রমিকরা ১৫ থেকে ২০ ফুট উপর থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান। তিনি জানান, এ অবস্থায় প্রায় ১২০ ফুট পর্যন্ত পানি, বালি ও গ্যাস উপরে উঠতে থাকলে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের নির্দেশে তাৎক্ষণিক অনি’র্দিষ্টকালের জন্য স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়।

সূত্র: সময় নিউজ।