ম’রদেহ পো’ড়ানোর ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে উহান, দেখার সুযোগ নেই স্বজনদের

বিশ্বজুড়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভা’ইরাস। বাড়ছে আ’ক্রান্ত ও মৃ’তের সংখ্যা। ভাই’রাসটির উৎস চীনের উহান শহরে এর প্রকোপ প্রায় মহামা’রি আকার ধারণ করেছে। করোনাভা’ইরাস মানুষ থেকে মানুষে সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে বলে ম’রদেহ পো’ড়ানোর মাধ্যমে শেষকৃ’ত্য সম্পাদনের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফলে নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই ম’রদেহ পো’ড়াতে হচ্ছে শ্মশা’নকর্মীদের।

কাজটি এতটাই সুর’ক্ষিতভাবে করা হচ্ছে যে, প্রিয়জনের মুখ শেষবারের মতো দেখারও সুযোগ পাচ্ছেন না পরিবারের সদস্যরা। গত ১ ফেব্রুয়ারি চীনের ন্যাশনাল হেল’থ কমিশন জানিয়েছে, করোনাভা’ইরাসে যারা মা’রা যাচ্ছে, তাদের ম’রদেহ অবশ্যই পু’ড়িয়ে ফেলতে হবে। এ কারণে দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে শেষকৃ’ত্যে নিয়োজিত কর্মীদের। তারা বিভি’ন্ন হাসপা’তাল, বাড়িঘর থেকে করোনাভা’ইরাসে মৃ’তদের ম’রদেহ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে পু’ড়িয়ে ফেলছেন।

ইউন নামে উহানের এক শ্ম’শানকর্মী জানান, তারা প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০টি ম’রদেহ পো’ড়াচ্ছেন। গত ২৮ জানুয়ারি থেকে তিনি ও তার প্রায় সব সহকর্মীই সপ্তাহে সাতদিন ২৪ ঘণ্টাই কাজ করছেন। এমনকি সামান্য বিশ্রাম নেয়ার জন্য বাড়ি ফেরারও সময় পাচ্ছেন না কেউ। এ কাজের জন্য শিগগিরই আরও লোকবল দরকার বলেও জানান তিনি। সং’ক্রমণ এড়াতে ম’রদেহ পোড়ানোর কাজে নিয়োজিতদের ভা’ইরাসপ্রতি’রোধী বিশেষ ধরনের পোশাক দেয়া হয়েছে।

এই পোশাক ভা’ইরাস থেকে রক্ষা করলেও রয়েছে অন্য সমস্যা। ইয়ুন বলেন, ‘প্রতি’রোধী পোশাক পরায় আমরা দীর্ঘ সময় কিছু খেতে বা পান করতে পারি না। কারণ খেতে হলে বা বাথরুমে যেতে হলে ওই পোশাক খুলে ফেলতে হয়। ভা’ইরাসপ্রতিরো’ধী এই পোশাক একবারের বেশি ব্যবহারও করা যায় না।’ উহানের স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শহরটির শ্ম’শানকর্মীদের জন্য ভা’ইরাসপ্রতি’রোধী পোশাকের স্ব’ল্পতা দেখা দিয়েছে। অনেকেই রেইনকোট পরে বিকল্প ব্যবস্থার চে’ষ্টা করছেন।

এছাড়া, ক’রোনাভাই’রাস সংক্র’মণের কারণে প্রিয়জনের ম’রদেহ দেখারও সুযোগ দেয়া হচ্ছে না পরিবারের সদস্যদের।-পূর্বকোণ