মসজিদে প্রার্থনায় চীনা প্রেসিডেন্ট! সত্য কি?

সোশ্যাল মিডিয়া ও হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) লোগো দেওয়া একটি ভিডিও সম্প্রতি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, দেশকে করোনাভা’ইরাসের হাত থেকে মুক্ত করতে এবার মসজিদে প্রার্থনায় গেলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং সেদেশের প্রধানমন্ত্রী! সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক মানুষ সেই ভি’ডিও শেয়ার করে লিখেছেন, ‘চীনা প্রধানমন্ত্রী নামাজ ও প্রার্থনার জন্য মসজিদে এলেন।’

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেই ভি’ডিও প্রায় ৬৪০০০ বার দেখা হয়েছে, শেয়ার হয়েছে প্রায় ৭৫০০ বার। ট্যুইটারের ভি’ডিওটি বহুলভাবে প্রচার করা হয়েছে। এক ট্যুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মসজিদে প্রার্থনা করছেন দেশের এই কঠিন সময়ে মুসলিমদের জন্য। আমরা আপনার সাহায্য চাই।’ সেই পোস্টের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ওয়েক আপ ফর কাশ্মীর লিখেও হ্যাশট্যাগ দেওয়া হয়েছে।

সত্য: ভি’ডিওটিতে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, তিনি মালয়েশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ আহমেদ বাদাই, আর এই ভি’ডিওটি ২০০৪ সালের মে মাসের। ভি’ডিওটি সেইসময় তোলা হয়েছিল যখন, ২০০৪ সালে বাদাই পাঁচদিনের জন্য চীন সফরে গিয়েছিলেন। আর সেই সফরের মাঝে এক শুক্রবারের নমাজের জন্য তিনি হাজির হয়েছিলেন চীনের বেজিংয়ের নান শিয়া পো মসজিদে।

বাদাই ২০০৩ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নাজিব রাজাক এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হলেন মহাথীর বিন মহম্মদ। এই ভি’ডিওটি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বা চীনা প্রধানমন্ত্রীর কোনও মসজিদে যাওয়ার দৃশ্য নয়।

তথ্য যাচাই ও প্রক্রিয়া: ভি’ডিওটি শেয়ার করে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভু’ল। আমরা ইউটিউবে ‘PM visits mosque AP video’ লিখে সার্চ করেছিলাম। আর তারপরই আমরা ২০১৫ সালে ২১ জুলাই অ্যাসোসিয়েট প্রেসের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এই ভি’ডিওটি দেখতে পাই। যার শিরোনাম ছিল ‘রাজধানীর মসজিদে গেলেন প্রধানমন্ত্রী।’

সেই ভি’ডিওর বিবরণেও লেখা ছিল, পাঁচদিনের জন্য চীন সফরে গিয়েছিলেন বাদাই। আর সেই সফরের দ্বিতীয় দিনে এক শুক্রবারের নমাজের জন্য তিনি হাজির হয়েছিলেন চীনের বেজিংয়ের নান শিয়া পো মসজিদে।

সিদ্ধান্ত: চীনা প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর নাম করে যে ভি’ডিওটি শেয়ার করা হচ্ছে তা আসলে মালেশিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর। সেইসঙ্গে দাবিটিও সম্পূর্ণ ভু’য়ো।

সূত্র: এই সময়