২০ হাজার টাকার কাছে হার মানছে শাকিলের শিক্ষাজীবন!

সংসারের বড় ছেলে হলে অনেক কিছুই সহ্য করতে হয়। আর অসহায় পরিবারে জন্মালে তো কথাই নেই। তেমনি এক বড় ছেলে শাকিল রানা। যিনি ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখছেন বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। অভাবের সংসার হওয়ায় চা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। আর এভাবেই তিনি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু এবার ২০ হাজার টাকার জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছেন না।

শাকিল লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি গ্রামের শ্রমিক মমিনুল ইসলামের ছেলে। ভূমিহীন মমিনুল ইসলাম এক ছেলে ও এক মেয়ের সংসারের খরচ জোগাতে হোটেলে কাজ করেন। অভাব-অনটনের কারণে বড় ছেলে শাকিলকে আদিতমারী স্টোরপাড়া গ্রামে নানার বাড়িতে রেখেছেন। ছোটবেলা থেকেই চা বিক্রেতা নানা আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে থেকে দোকানে সহায়তার পাশাপাশি পড়াশোনা করছেন শাকিল।

প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোতেই লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় চালিয়ে নেন খরচ। আদিতমারী হাসপাতাল গেটে নানার চায়ের দোকানে কাজ করেই ২০১৭ সালে সরকারি আদিতমারী জিএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.০৯ পান। এতে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। ভর্তি হন রংপুর সরকারি কলেজে। সেখানে টিউশনি করে ২০১৯ সালে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন।

এবার বিসিএস ক্যাডার হওয়ার আগ্রহ আরো বেড়ে যায় তার। জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযু’দ্ধে অংশ নিয়ে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭২তম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮৩৩তম মেধাক্রমে উত্তীর্ন হন।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হতে মনস্থির করেন শাকিল। কিন্তু ভর্তি ফি আট হাজারসহ আনুষঙ্গিক মিলে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন।

এত টাকা জোগাতে কিছুদিন ধরে নানা আব্দুস সাত্তারের চায়ের দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ভর্তির দিনক্ষণ নির্ধারণ হলেও জোগাড় হয়নি টাকা। ফলে অর্থের অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার। নাতির ইচ্ছা পূরণে ভর্তির টাকা জোগাতে বিভিন্ন এনজিওতে ঋণ নিতে ছুটছেন নানা। সঞ্চয় ছাড়া কোনো এনজিও ঋণ না দেয়ায় হতা’শ হয়ে পড়েছেন তিনি।

আব্দুস সাত্তার বলেন, শাকিলের ইচ্ছা পূরণে বিভিন্ন এনজিওতে গিয়েছি। কিন্তু সঞ্চয় না থাকায় কেউ ঋণ দেয়নি। এখন ২০ হাজার টাকা কোথায় পাই। কে দেবে এত টাকা। শাকিল রানা বলেন, চা বিক্রেতা নরেন্দ্র মোদী যদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। আমি চা শ্রমিক হয়ে কেন বিসিএস ক্যাডার হতে পারব না। ভর্তির টাকা কেউ ঋণ হিসেবে দিলেও আমি নেব এবং পরবর্তীতে তা পরিশো’ধ করব। আমি আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই। এজন্য সবার সাহায্য চাই।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ