আজহারী কিভাবে বাইরে গেল, তাকে কেন গ্রেফ’তার করা হয়নি : সংসদে মেনন

শরিয়ত বাউলকে গ্রে’ফতার করে জেলখা’নায় রাখা হয়েছে অথচ ওয়াজকারী মিজানুর রহমান আজহারী কীভাবে দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারল তা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আজহারী সম্পর্কে ধর্মমন্ত্রী বলেছেন তিনি জামায়াতের পক্ষ হয়ে কাজ করছেন। আইসিটি আ’ইনে তাকে গ্রেফ’তার করা হয়নি বরং তাকে নির্বি’ঘ্নে মালয়েশিয়ায় চলে যেতে দেয়া হয়েছে। আর শরিয়ত বাউলকে আইসিটি আ’ইনে গ্রেফ’তার করে জেলখা’নায় রাখা হয়েছে। মেনন বলেন, আমাদের দেশে শরিয়ত ও মারফতের দ্ব’ন্দ্ব অনেক পুরাতন।

এখন সাঈদী-পাকিস্তানি ও জামাতিদের ওহাবীবাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত করতে এ ধরনের দ্ব’ন্দ্বের সম্পর্কে যখন রাষ্ট্রীয় আ’ইন ব্যবহার করা হয়, তখন উদ্বে’গের বিষয়। রাষ্ট্র কী অতীতের মতো আবার মৌল’বাদকে পৃষ্ট’পোষ’কতা দিচ্ছে? না হলে আজহারী দেশ ছেড়ে যেতে পারে না। খতমে নবুয়ত নতুন করে হু’ঙ্কার ছাড়তে পারে না। হেফাজত সমর্থন প্রত্যা’হারের হুম’কি দিতে পারে না।

এরাই কদিন পর পাকিস্তানি কায়দায় ব্লাস’ফেমি আ’ইন প্রণয়ন করতে বলবে, যেমন এই সংসদেই যু’দ্ধাপরা’ধী নিজামী সেই প্রস্তাব তুলেছিলেন। তিনি আরো বলেন, আমি শুরুতেই বলেছি বঙ্গবন্ধু এদেশকে ধর্ম’নিরপে’ক্ষতার মূল নীতি উপহার দিয়েছিলেন। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, ধর্মের ভি’ত্তিতে বিভা’জনের বি’রুদ্ধে তিনি কেবল সোচ্চার ছিলেন না, বাস্তবে তার অনুসরণ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কারও ধ’র্মীয় অনু’ভূতিতে আ’ঘাত দিলে আ’ইন তার ব্যবস্থা নেবে। আমি এই সংসদে স্পিকারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে ইউটিউবে প্রচারিত ধর্মী’য় উম্মাদনা সৃ’ষ্টি ও বিভা’জনের কিছু বক্তব্যের পেন-ড্রাইভ দিয়েছিলাম। সেসবের বিরু’দ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানা নেই। গণত’ন্ত্রের বিরু’দ্ধে, অসা’ম্প্রদায়ি’ক রাজনীতির বিরু’দ্ধে ষ’ড়য’ন্ত্র অব্যা’হত রয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগেই তারা মরিয়া আ’ক্রমণ করবে। ধর্মবা’দী তো বটেই, ওই ষড়’য’ন্ত্র বাস্তবায়নে ডান ও তথাকথিত বামও এক হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বাঙালি জাতি পরিচয়ের ব্যাপারে তিনি এতটুকু দ্বি’ধায় ভো’গেন নেই। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নামে যে ধ’র্মীয় আবরণ দিয়ে তাকে পাকিস্তানি আদলে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছিল, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশো’ধনীতে তার ছেদ ঘটানো হয়েছে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টার অবসান হয় নেই। রাষ্ট্রীয় প্রচারে, আমাদের আচার আচরণে, বেশ-ভূষার পরিবর্তনে তার রেশ আমরা দেখি।

ফেসবুক, ইউটিউবের নিত্য প্রচারে সেই মনমানসিকতাকে উসকে দেয়া হচ্ছে প্রতিদিন। ভাষা আ’ন্দোল’ন যেমন আমাদের জাতিস’ত্তাকে নির্দিষ্ট করেছে, তেমনি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুও নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন, ‘ফাঁ’সির ম’ঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব আমি বাঙালি, বাঙলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা’।

সূত্র: সময় নিউজ।