বিচার তো আল্লাহই করবেন, বান্দারা কেন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম ধর্মের নামে জ’ঙ্গি’বাদ সৃষ্টি করে বিশ্বের কাছে পবিত্র এই ধ’র্মটাকে প্র’শ্নবি’দ্ধ করা হচ্ছে। যারা সত্যিকারের ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করেন তারা কখনো দ্ব’ন্দ্বে জড়াতে পারেন না। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতি’ত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নো’ত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

তরিকত ফেডারেশনের সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর এক সম্পূ’রক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইমলাম শান্তির ধর্ম, বিশ্বের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধর্ম। ইসলাম ধর্মের মধ্যে ভাগ, কে ভাল কে খারাপ, কে প্রকৃত ইসলামে বিশ্বা’সী, কে বিশ্বা’সী নয়, কে সঠিভাবে ধর্ম পালন করে কে করে না, কে বেহেশেতে যাবে কে যাবে না- তার বিচার তো আল্লাহই করবেন। তার বান্দারা কেন এই বিচার করবেন? কে ভাল মুসলমান, কে মুসলমান নয়- তার বিচার করার ভার আল্লাহ তো কারো হাতে দেননি।

তিনি আরও বলেন, কারো ধ’র্মে আ’ঘাত দিয়ে কথা বলা যাবে না। যার ধর্ম সেই পালন করবে। সেই বিশ্বাস যদি থাকে তাহলে এ দ্ব’ন্দ্ব আর থাকে না। সরকারি দলের এমপি দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, স’ন্ত্রা’স, জ’ঙ্গি’বাদ ও মা’দক- এই তিনটির বিরু’দ্ধেই সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিশেষ করে মা’দক ব্য’বসা, পা’চার, সে’বন ও বিস্তারের বি’রুদ্ধে পদক্ষেপের ফলে মাদক অনেকটাই নিয়’ন্ত্রণে এসেছে।

মা’দক প্রতি’রো’ধের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। তবে সেই সঙ্গে মা’দকের কুফল বিষয়ে ছেলে-মেয়েদেরও সচেতন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারের পদক্ষেপের ফলে মা’দকের বিস্তার অনেকটাই নি’য়ন্ত্র’ণে এসেছে। তবে সমস্যাটা হচ্ছে, একটাকে প্র’তিরো’ধ করা হলে আরেকটা চলে আসে। সরকার এর বিস্তার রো’ধেও পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি তরুণ সমাজ ও আশপাশে যারা আছেন- তাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

মাদ’কের বিরু’দ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃ’ষ্টি করতে হবে। সমাজকেও আরও সচেতন হতে হবে। বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের সম্পূ’রক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরিতে আলাদা কোটা কেন রাখতে হবে? এটা রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের পদক্ষেপের ফলে দেশে ব্যাপক কর্মসং’স্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। তরুণরা যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য করে স্বকর্ম’সংস্থান সৃষ্টি করতে পারে এবং নিজেরা স্বউপার্জিত হয়ে অন্যদের কর্মসংস্থা’নের ব্যবস্থা করতে পারেন- সেজন্যও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পরও এদেশের ছেলে-মেয়েদের প্রবণতা রয়েছে, যেভাবেই হোক লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করতেই হবে। বিদেশে কিন্তু এই প্রবণতা নেই।

এই মা’নসিকতা বদলে ছেলে-মেয়েরা যদি নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন, শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে পারেন- তাহলে তারা অন্যদেরও চাকরি দিতে পারবেন।তিনি বলেন, প্রশ্ন উত্থা’পনকারী সংসদ সদস্যের দলের (বিএনপি) আমলে শিক্ষার্থীদের হাতে অ’স্ত্র ও মা’দক তুলে দিয়ে তাদের ধ্বং’সের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। স’ন্ত্রা’স, অ’স্ত্রবা’জি ও বো’মাবাজির মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গ’নগুলোকে অশা’ন্ত করে তোলা হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিবেশটা এখন আর নেই। প্রধানমন্ত্রী জানান, জ’ঙ্গি ও স’ন্ত্রা’সী কর্মকা’ণ্ডের সঙ্গে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যেন সম্পৃক্ত না থাকে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ চালু হওয়ার ফলে অন্যান্য অপরাধের মতো জ’ঙ্গি কর্মকা’ণ্ডের সংবাদ তাৎক্ষ’ণিকভাবে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় জ’ঙ্গিবা’দ দম’নে আই’নশৃঙ্খ’লা বাহি’নীর সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।-মানবকণ্ঠ