গাজীপুরে সালমান শাহ্’র ভাস্কর্য উন্মোচন

নব্বই দশকে ধূমকেতুর মতো বাংলা চলচ্চিত্রে আগমন ঘটেছিলো চিত্রনায়ক সালমান শাহ্’র। প্রথম ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়েই করেছিলেন বাজিমাৎ। এরপর মাত্র চার বছরে দুই ডজন সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে সেরা নায়ক হিসেবে প্রমাণ করেছিলেন। কিন্তু ১৯৯৬ সালে র’হস্যজনক মৃ’ত্যু হয় তার। তার সেই মৃ’ত্যু রহস্যের জট আজও খোলেনি!

মৃ’ত্যুর ২৪ বছর কেটে গেলেও সালমান শাহকে আজও ভোলেনি দেশের মানুষ। এখনও খুঁজে পাওয়া যায় তার ‘ডায়হার্ট ফ্যান’! তেমনই একজন ভক্ত নাম মো. রাশেদুল ইসলাম (রাশেদ খান)। তার অনেকদিন ধরেই ইচ্ছে ছিল সালমান শাহ্’র নামে কিছু করবেন। তারই গড়ে তোলা সালমান শাহ্’র সুপারহিট সিনেমা ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ নামের একটি রিসোর্ট দিয়েছেন রাশেদ। সেখানে গড়েছেন অমর নায়ক সালমানের এক ভাস্কর্য।

বৃহস্পতিবার সালমান শাহ্’র সেই ভা’স্কর্যটি উন্মোচন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সালমান শাহের প্রথম ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। আরও ছিলেন সালমানের ‘সুজন সখী’ সিনেমার পরিচালক শাহ আলম কিরণ, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ সিনেমার পরিচালক শিল্পী চক্রবর্তী, ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার পরিচালক রেজা হাসমত।

গাজীপুরের উলুখোলা থানার বীরতুল উত্তরপাড়ায় অবস্থিত এ রিসোর্টে সালমানের এ ভাস্কর্যের রয়েছে। আরও ছিলেন আওয়ামী লীগের মহীলা বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকী, সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর ও পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার। সালমান শাহ্’র প্রথম পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান বলেন, সালমানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।

দেশে লাখও সালমান ভক্ত রয়েছে। তারা যখন বিষয়টি জানতে পারবে, অবশ্যই এখানে আসতে চাইবে। তিনি বলেন, সালমান শাহ্’র মৃ’ত্যুর পরেও এতো জনপ্রিয়, তাই এফডিসির একটি শুটিং ফ্লোরেও তার নামকরণ দাবি রাখে। পরিচালক শাহে আলম কিরণ বলেন, সালমান শাহ্’র সাথে আমি ৩টি সিনেমায় কাজ করেছি। ২ টি সিনেমা সালমানের জীবদ্দশায় মুক্তি দিয়েছিলাম, নাম ‘সুজন সখী’ এবং ‘বিচার হবে’। কিন্তু ৩য় সিনেমাটি সালমান শেষ করে যেতে পারেনি, সিনেমাটির নাম ছিল ‘শেষ ঠিকানা’।

পরে অমিত হাসানকে দিয়ে শেষ করি সিনেমাটি। কাকতালীয়ভাবে ৩টি সিনেমাতেই নায়িকা ছিল শাবনূর। ভালো লাগলো চলচ্চিত্র প্রযোজক রাশেদ খান সালমান স্মরণে শুটিং স্পট করেছেন বলে। আশা করবো সালমান ভক্তরা এই স্পটে আসবেন, সালমানের ভাস্কর্য দেখবেন, সালমানকে অন্তরে ধারণ করবে। স্বপ্নের ঠিকানার কর্ণধার রাশেদ ইসলাম বলেন, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’র সামনেই ফাইবারে তৈরী সালমান শাহ্’র ভাস্কর্য।

এটি তৈরি করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থী পলাশ। প্রায় ৫ বিঘা জমির উপর ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ নির্মাণ হয়েছে। সালমান শাহকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তারই জনপ্রিয় ছবি ‘স্বপ্নের ঠিকানা’র নামে শুটিং বাড়িসহ রিসোর্ট নির্মাণ করেছি।-চ্যানেল আই অনলাইন