ভারতকে হারাতে বাংলাদেশের দরকার ১৪৩

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেমেই ভারতকে কাঁপিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। টসে হেরে ব্যাট করতে নামা ভারত তুলেছে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রান। পার্থে আজ জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে টাইগ্রেসদের করতে হবে ১৪৩ রান।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১১ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দুই উইকেটে ৬১ রান। ১০ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন সানজিদা ইসলাম, সঙ্গে আছেন নিগার সুলতানা ১৬ রান নিয়ে।

দলীয় ৪৪ রানের মাথায় দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে মুর্শিদা খাতুন ৩০ রান করে আউট হন। তার ২৬ বলের ইনিংসে ছিল চারটি চারের মার। এর আগে জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলেই ফেরেন ওপেনিংয়ে নামা শামিমা সুলতানা (৩)। যাতে দলীয় পাঁচ রানেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

এদিন টস জিতে বোলারদের হাতে বল তুলে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সালমা খাতুন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সালমা নিজেই আঘাত হানেন ভারতীয় শিবিরে। ওপেনার তানিয়া ভাটিয়াকে ব্যক্তিগত দুই রানে ফিরিয়ে দেন সালমা। এরপর শেফালি ভার্মা ও জেমিমা রদ্রিগেজ প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তাদের বেশিদূর এগুতে দেননি বাংলাদেশি বোলাররা।

৭২টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১২টি ফিফটি হাঁকানো স্মৃতির শূন্যস্থান পূরণ করা হয়নি তানিয়া ভাটিয়ার। ব্যাটিং লাইনআপে ওপরে উঠে বরং চাপে পড়ে তানিয়া আউট হয়ে গেছেন দ্বিতীয় ওভারেই, মাত্র ২ রান তুলে। তাতে অবশ্য খুব একটা ক্ষতি হয়নি ভারতের।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে মাত্র ১৫ বল খেলেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন শেফালি ভার্মা। সেদিন ২৯ রান করেছিলেন ১৬ বছরের এই মেয়েটি। আজ তার চেয়ে মাত্র ২ বল বেশি খেলেছেন। কিন্তু তাতেই ১০ রান বেশি করেছেন শেফালি। মাত্র ২টি চারের সঙ্গে দুর্দান্ত ৪টি ছয়ে ৩৯ রান করে ফিরেছেন ষষ্ঠ ওভারে।

শেফালি যখন ফিরছেন তখন ভারতের রান ৫৩। পাওয়ার প্লেতে ৫৪ রান পাওয়া ভারতের তবু চিন্তার কারণ ছিল না। একদিকে জেমিমাহ রদ্রিগেজ আছেন, অন্যদিকে নেমেছেন অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর। কিন্তু বাংলাদেশকে স্বস্তি দিয়ে পানা ঘোষের নিরীহ এক বলে গালিতে ক্যাচ দিয়েছেন মাত্র ৮ রান করা হারমানপ্রীত।

ভারতের রান ততক্ষণে ৭৮। ১০ ওভারেই ৭৮ রান করা ভারতের স্কোর কোন পাহাড় চূড়ায় ওঠে, তখন হয়তো সেই দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। আগের ম্যাচেই মাত্র ১৩২ রান করেও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করে ভারত। এমন অবস্থায় রুমানার স্পেলে একটু চেপে ধরে ভারতীয়দের। মাত্র ২১ রানের মধ্যে তিনজনকে ফিরে যান রান বাড়ানোর চাপে। এর মাঝে দুজনই হয়েছেন রান আউটের শিকার। জেমিমাকে (৩৪) রানআউট করার পেছনে নাহিদা ও নিগারের দুর্দান্ত অ্যাথলেটিসিজম ভূমিকা রাখলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৯ রান করা দীপ্তির রানআউটটি ছিল বেশ হাস্যকর।

তবুও আটকানো যায়নি ১১৩ রানে ৬ উইকেট হারানো ভারতের বড় স্কোরকে। ভেদা কৃষ্ণমূর্তির ছোট এক ক্যামিও (১১ বলে ২০) ভারতকে এনে দিয়েছে ম্যাচ জেতার মতোই এক স্কোর। বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য যা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়েই অপেক্ষা করছে।