আল্লাহর ৯৯ নাম সম্বলিত কলমটি এরদোগানকে উপহার দিতে চান হায়দার

মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম সম্বলিত একটি কলম তেরি করেছেন আব্দুল্লাহ আল হায়দার নামে এক যুবক। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামের মৃত শরীফ আব্দুল্লাহ হারুনের ছেলে। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ ও নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে ২৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৮ ইঞ্চি প্রস্থের ৭৮ কেজি ওজনের একটি বল পয়েন্ট কলম তৈরি করেছেন তিনি। এই কলমটি তিনি উপহার দিতে চান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে।

কলমের গায়ে আল্লাহর পবিত্র ৯৯ নাম ও আল কোরআনের ১১৪টি সুরার নাম খোদাই করে আরবি নিজেই লিখেছেন ওই যুবক। সেগুন কাঠ দিয়ে বানানো কলমটিকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কলমের স্বীকৃতি দিতে ইতোমধ্যে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদন করেছেন হায়দার। স্বীকৃতি পেতে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের দেয়া ৬১টি শর্তই পূরণ করতে পেরেছেন তিনি।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামের মৃত শরীফ আব্দুল্লাহ হারুনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল হায়দার পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন তিনি। সম্প্রতি বাড়ির ছাদের ওপর কলমটি তৈরি করেছেন তিনি। কলমটিতে আরবি হরফে খোদাই করে লেখা হয়েছে আল্লাহর পবিত্র ৯৯টি নাম ও পবিত্র কোরআন শরীফের ১১৪টি সুরার নাম। হায়দার নিজেই আরবি হরফে নামগুলো খোদাই করেছেন।

কলমের নিপ তৈরির কাজে সহযোগিতা করেছেন মাস্টার ক্রাফটম্যানশিপের হেড ট্রেইনার জাহিদ হোসেন। আর নির্ভুল আরবি লেখার যাচাইয়ের কাজে সহযোগিতা করেছেন সদর উপজেলার বিরামপুর উত্তরপাড়ায় অবস্থিত মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নজরুল ইসলাম বিন সাইদ এবং সদর উপজেলার নরসিংসারের জোবায়দা খাতুন মহিলা মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

হায়দার বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে তিনি খুব পছন্দ করেন। ধর্মীয় মূল্যবোধের চিন্তা থেকেই কলমটি তিনি তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, এর আগেও তিনি সাড়ে ৪ হাজার মিটার দৈর্ঘ্য একটি পুতির মালা তৈরি করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের অবস্থান তুলে ধরা। কিন্তু বুঝতে ভুল হওয়ার কারণে আবেদনে ত্রুটি ছিল। তাই সেটি সে সময় আর হয়ে উঠেনি। এবার গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেলে কলমটি তার পছন্দের ব্যক্তি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে উপহার দিতে চান। তার এ কাজে তিনি গণমাধ্যমের সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।

হায়দার বলেন, ১৫ দিন আরবি হরফে লেখার চর্চা করার পর কলমের গায়ে আল্লাহর পবিত্র ৯৯টি নাম ও পবিত্র কোরআন শরীফের ১১৪টি সুরার নাম এবং দুটি সুরার চারটি আয়াত আরবি হরফে লিখে খোদাই কাজে সফল হয়েছি। তিনি আরো বলেন, এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ বল পয়েন্ট কলম হিসেবে স্বীকৃতি পেতে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদন করেছি। গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ তার আবেদনটি গ্রহণ করে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ৬১টি শর্ত দিয়েছে।

সবগুলো শর্তই পূরণ করতে পেরেছেন বলে দাবি হায়দার বলেন, গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি যে, ২০১১ সালে ভারতের হায়দরাবাদের আচার্য মুকুনুরি শ্রীনিবাস নামে এক ব্যক্তি ৩৭ দশমিক ২৩ কেজি ওজনের সাড়ে পাঁচ মিটার (১৮ দশমিক ৫৩ ফুট) দৈর্ঘ্যের একটি বল পয়েন্ট কলম তৈরি করেছিলেন।-নয়া দিগন্ত।