শুভ জন্মদিন ‘সাকিব আল হাসান’

সাকিব আল হাসান ক্রিকেট মাঠে অসংখ্য কীর্তি আর রেকর্ডের জন্ম দিয়েছেন। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ২০১৫ সালে ক্রিকেটের আলাদা তিন ফরম্যাট টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে একই সঙ্গে আইসিসির অলরাউন্ডারদের র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিলেন। পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের খেতাব। মাগুরা থেকে উঠে আসা ‘বাংলাদেশের প্রাণ’ সাকিব আল হাসানের জন্মদিন আজ। ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ জন্ম নেওয়া সাকিব তেত্রিশে পা রাখলেন আজ।

মাগুরার স্থানীয় একটি ক্লাবে খেলে ক্রিকেট রপ্ত করতে থাকেন সাকিব। বাঁহাতি ব্যাটিং ও বোলিংয়ে দ্রুতই সমবয়সীদের ছাড়িয়ে যেতে থাকেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। ক্রিকেটের প্রতি ছেলের আগ্রহ দেখে বাবা তাকে ভর্তি করিয়ে দেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)।

পরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে দ্যুতিময় পারফরম্যান্সই সাকিবকে নিয়ে আসে পাদপ্রদীপের আলোয়। ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে সাকিব আল হাসানের। একই বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই খুলনায় টি-২০ ও পরের বছর চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক হয় সাকিবের।

অভিষেকের সাথে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক আলোকবর্তিকা নিয়ে আসেন সাকিব। পিছে তাকে হয়নি আর কোনদিন ২০০৯ সালে একমাত্র বাংলাদেশি অলরাউন্ডার হিসেবে ওয়ানডে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠে আসেন। এরপর টেস্টেও নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করে সেরা অলরাউন্ডারের আসনটি দখল করেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ক্রিকেটের তিন বিভাগের সেরা অলরাউন্ডার হন এই ক্রিকেটার।

সাদা পোশাকে সাকিবসহ মাত্র তিনজন ক্রিকেটারের একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। সাকিবের এক ওয়ানডে ম্যাচে সেঞ্চুরি ও চার উইকেটও রয়েছে। একই টি২০ ম্যাচে রয়েছে পাঁচ উইকেট ও ৪০ এর অধিক রান ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০০০ রান ও ৪৫০ উইকেটের বেশি নেওয়ার কৃতিত্ব মাত্র তিনজনের। এরমধ্যে সাকিব একজন।

বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে খেলেছেন। পাশাপাশি বিশ্বের সব ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তবে সব দিক থেকে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা সাকিব ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে এসে পড়েছেন এক নিষে’ধাজ্ঞায়।

যখন বিশ্বকাপের মত বড় টুর্নামেন্টে হাঁকিয়েছেন দুই শতক, রানের দিক থেকে করেছেন বিশ্ব রেকর্ড, এক বিশ্বকাপে শতকের সাথে ৫ উইকেট নিয়ে নাম লিখিয়েছেন বিশ্ব রেকর্ডের পাতায় ঠিক সেই বছরেই সাকিবের নামটা লেখা হয়ে গেছে লাল কালিতেও। ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে কোন এক নাম না জানা ভুলে সাকিব এখনো কপাল চাপড়াচ্ছেন হয়তো।

ম্যাচ ফি’ক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও সেটি গো’পন রাখার কারনে ব্যাটে-বলে সেরা এই ক্রিকেটার এখন প্রিয় খেলা থেকেই নি’ষিদ্ধ। যদিও এরই মধ্যে কেটে গেছে ৫ মাস। বাকি ৮ মাস বাদে হয়ত আবারো ফিরবেন সাকিব। হয়ত আরো ধারালো হয়ে। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছর অক্টোবরের ৩০ তারিখ থেকে আবারো মুক্তি বিহঙ্গের মতো ক্রিকেটে ফিরবেন ক্রিকেটের এই বরপুত্র।

এখন পর্যন্ত ৫৬ টেস্টের ১০৫ ইনিংসে ব্যাট করে সাকিব ৩৯.৪১ গড়ে ৩৮৬২ রান করেছেন। রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ২৪টি হাফসেঞ্চুরি। সাদা পোশাকে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ২১৭। সমান টেস্টে ৯৫ ইনিংসে বল করে পেয়েছেন ২১০ টি উইকেট। ১০ উইকেট পেয়েছেন দু’বার। আর ৫ উইকেট পেয়েছেন ১৮বার। এক ম্যাচে তার সেরা বোলিং ফিগার ১২৪ রানে ১০ উইকেট। আর এক ইনিংসে ৩৬ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট।

ওয়ানডেতে সাকিবের ক্যারিয়ার আরও সমৃদ্ধ। ২০৬ ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন ১৯৪ বার। যেখানে ৩৭.৬৪ গড়ে করেছেন ৬৩২৩ রান। রয়েছে ৯টি সেঞ্চুরি ও ৪৭ টি হাফসেঞ্চুরি। এক ম্যাচে তার সেরা ১৩৪ (অপরাজিত)। আর ২০৩ ইনিংসে বল করে ৩০.২২ গড় ও ৪.৪৮ ইকোনোমিতে নিয়েছেন ২৬০ টি উইকেট। ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন দুইবার। সেরা বোলিং ফিগার ২৯ রানে ৫ উইকেট।

৭৬ টি টি-টোয়েন্টির ৭৫ টি খেলে ১২৩.৮৭ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ১৫৬৭ রান। রয়েছে ৯ টি হাফসেঞ্চুরি। আর ৭৫ ইনিংসে হাত ঘুরিয়ে নিয়েছেন ৯২ উইকেট। ইকোনোমি ৬.৮২। সেরা বোলিং ফিগার ২০ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট।