কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে নিজের রিসোর্ট দিতে চান হাফিজ ইব্রাহিম

সারা বিশ্বে করোনার ভয়া’বহতার মধ্যে বাংলাদেশের করোনা আক্রা’ন্ত কিংবা আক্রা’ন্ত আশ’ঙ্কায় সন্দে’হভাজন ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনের জন্য নিজের রিসোর্ট ব্যবহার করতে দিতে চান বিএনপির সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম। হোম কোয়ারেন্টাইনের জন্য রাজেন্দ্রপুর ইকো রিসোর্ট লিমিটেডকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দিতে চান তিনি।

রোববার সমকালের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান। হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ইকো রিসোর্টে ১০০টির ওপরে সুসজ্জিত কক্ষ আছে। সরকার যদি ইচ্ছা পোষণ করে, বিনামূল্যে আমরা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের জন্য রিসোর্টটি দিতে প্রস্তুত। তিনি এ রিসোর্টের চেয়ারম্যান।

২০০৯ সালে এ রিসোর্টটি তৈরি হয়। এটির অবস্থান গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে শালবনের ভেতরে। প্রায় ৮০ বিঘা জমি নিয়ে যৌথ মালিকানায় গড়ে তোলা হয়েছে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট। বনের স্বাভাবিক সৌন্দর্য্যকে অক্ষুন্ন রাখতে এখানে পরিকল্পিতভাবে আরো বনায়ন করা হয়েছে। রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টে ৫৭টি কটেজের মধ্যে ১৪টি ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, যাতে শতাধিক সুসজ্জিত কক্ষ আছে।

এছাড়াও রয়েছে বেশ কয়েকটি মাটির ঘর। এখানে আগত অতিথিরা চাইলে রিসোর্টের লেকে মাছ ধরা, নৌকা ও সাইকেল চালানো কিংবা শাক-সবজির ক্ষেত ও ফার্ম ঘুরে দেখতে পারেন। রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টে আরো রয়েছে একটি সুইমিং পুল ও ক্যাফেটেরিয়া। রয়েছে ২০০ লোক ধারণ ক্ষমতার মিলনায়তন। মানবসমৃদ্ধ কাঠামো ও প্রাকৃতিক পরিবেশের এক অপরুপ মেলবন্ধন রয়েছে রাজেন্দ্রপুর রিসোর্টে।

মানবিক সাহায্যের জন্য হাফিজ ইব্রাহিম এগিয়ে আসায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরকারের উচ্চ মহলের একটি টিম রিসোর্টটি পরিদর্শনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রিসোর্টের পরিচালক যসোদা জীবন দেবনাথ ও পরিচালক এজাজুল নিশ্চিত করেছেন। হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, দেশের জনগণের প্রয়োজনে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। সকলে মিলে একসঙ্গে এই দু’র্যোগ মুহূর্ত মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, এই রিসোর্ট ব্যবহার করতে হলে সরকারকে চিকিৎসা সুবিধা সংযোজন করতে হবে।

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের হোম কোয়ারেন্টাইনের জন্য তার রিসোর্ট সরকার ব্যবহার করতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কোয়ারেন্টাইন তদারকীর ব্যবস্থা করতে পারলে।

সূত্র: সমকাল।