৩৮ ডিগ্রিতেও স্বাভাবিক নগরবাসী!

প্রতীকী ছবি

শীত কিংবা গ্রীষ্ম, রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা সব সময়ই থাকে অস্বাভাবিক। উত্তরের জনপদ যখন তীব্র শীতে কাঁপে ঢাকায় তখনো শীত ছুঁই ছুঁই। রাজধানী সব সময় গরম থাকার জন্য জন্য বরাবরই অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণসহ দূষণকে দুষে এসেছেন পরিবেশবিদরা। এবার করোনায় স্থবির বিশ্বে প্রমাণ মিলল তারই।

৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রা যেখানে অসহনীয় হয়ে উঠতো, ফাঁকা ঢাকায় ৩৮ ডিগ্রিকেও স্বাভাবিক বলছে সেই নগরবাসী। আর দূষণ কমার কারণেই এমনটা হয়েছে, বলছেন জলবায়ুবিদরা। শীত কিংবা গ্রীষ্ম যাই হোক না কেন, রাজধানী ঢাকায় সবসময়ই গরম অনুভূত হয়। হবেই নাইবা কেন? এ শহরে বাস করে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি মানুষ। ২৪ ঘণ্টা চলে করকারখানা আর সড়কে সবসময় লেগে থাকে যানজট। খালি থাকে না বায়ু প্রবাহের জায়গাও।

কিন্তু অবাককরা ব্যাপার হলো, তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রিতে পৌঁছালে যে শহরে অস্বস্থি নেমে আসতো, এখন ৩৮ ডিগ্রিতেও নেই সেই অস্বস্তি। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে বুধবার সকালে ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরো কিছুদিন এ অবস্থা থাকবে বলেও জানাচ্ছেন তারা। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে আরো কিছুদিন এটা অব্যাহত থাকতে পারে।

পিটিসি চলতি সপ্তাহে দেশের তাপমাত্রা উঠেছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। সাধারণত মৃদু কিংবা মাঝারি তাপমাত্রা জনজীবনে অস্থিরতা নেমে এলেও এবার তেমনটি দেখা যায়নি। এর সঙ্গে বাতাসে আদ্রতা কম থাকার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপি নেমে আসা স্থবিরতার সম্পর্ক আছে বলে মনে করছেন জলবায়ুবিদরা।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন লকডাউন চলছে বললে অনুভূতি হচ্ছে না যখনি স্বাভাবিক পরিস্থিতি হবে তখন হিটওয়েভে আমরা তীব্র গরম অনুভব করব। করোনার স্থবিরতার এ পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে বিশ্বব্যাপি কার্বন নিঃসরণ কমানো ও ব্যাপক বনায়নে গুরুত্ব দিতেও বলছেন এ জলবায়ুবিদ।

সূত্র: সময় নিউজ।