সবাই করোনা থেকে দূরে থাকতে চান, আর এই ২৭ বছরের ডাক্তার করোনায় আক্রা’ন্ত হতে চান

মারা’ত্মক ছোঁয়াচে করোনাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছে অনেক ডাক্তার-নার্স। অনেকেই ভয়ে চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। তবে ব্যাতিক্রম একজন অ্যালেক্স জর্জ। তিনি শুধু করোনা রোগীদেরই চিকিৎসা দিতে চান। করোনাভাইরা’সকে তিনি নিজের শরীরে নিতে চান। কেন তার এমন অদ্ভুত চাওয়া সেটা প্রকাশ করেছেন ডাক্তার অ্যালেক্স জর্জ নিজেই।

সাবেক লাভ আইল্যান্ড তারকা এবং অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সির প্রথম সারির ডাক্তার ২৭ বছর বয়সী জর্জ। করোনার মৃ’ত্যুপুরী ইতালির রাজধানী রোমে ‘ক্যাপিটাল ব্রেকফাস্ট’ নামের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ঘরে বসে চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন মানুষকে আশ্বাস দেওয়ার জন্য। যারা মারা’ত্মক প্রাদু’র্ভাবের কারণে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে যেতে ভয় পান।

তিনি অনেক শ্রোতাকে তাদের সমস্যায় সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মানুষের করোনা সম্পর্কিত নানা প্রশ্নে উত্তর দিয়েছেন। শ্রোতাদের তিনি করোনাভাই’রাসে ভয় পাওয়া নয়, এটাকে ধরতে পরামর্শ দিয়েছেন। তার এমন উদ্ভট কথা শুনে অনেকেই চমকে গিয়েছিল।

বিশেষত উদ্বি’গ্ন এক শ্রোতা ক্যাপিটাল ব্রেকফাস্টে কল দিয়ে ডা. অ্যালেক্সকে জিজ্ঞাসা করেন, পরের বছরের চেয়ে এখন ভাই’রাসটি ধরা ভাল কি-না। তখন তিনি ভাই’রাসটি নিজের শরীরে ধারণ করতে চান বলে জানিয়েছেন।

কিছু গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, মারা’ত্মক ভাই’রাসটি পরের বছর দুবারের মতো আরও খারাপ হয়ে ফিরে আসতে পারে। সুতরাং, ওই শ্রোতার প্রশ্ন ছিল, পরের বছর যখন এটি আরও একবার হানা দেবে তখন হয়তো এটাকে প্রতি’রোধ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে, তারচেয়ে এখনি এই ভাই’রাসকে ধরার চেষ্টা করা উচিত কি-না। বিশেষত ভাই’রাসটির সংস্প’র্শে আসলে মানুষের ইমিউন সিস্টেম এটার সঙ্গে পরিচিত হবে এবং এটাকে প্রাকৃতিকভাবেই প্রতিরোধ করতে পারবে।

তখন তিনি অদ্ভুত এই চাওয়ার কথা জানান। তবে প্রথম সারির এই ডাক্তার শ্রোতাদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ভাই’রাস স্ট্রে’নটিকে ধরার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে বলেন। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা যতটা সম্ভব অসুস্থ’তার মৃদু রূপের শিকার হতে চান, যাতে ভাই’রাসটিকে মান’বদেহ প্রতিরোধ করতে পারে।

অ্যালেক্স বলেছিলেন, আদর্শ পরিস্থিতি হল যতটা সম্ভব লোক ভাই’রাসটির খুব মৃদু রূপটি সংস্প’র্শে আসবে ততই এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এটি আবার যখন ফিরে আসবে তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম এটাকে প্রতিরোধ করতে সক্ষ’ম হবে।

এর অর্থ যদি কারও কাছে কোন লক্ষণ ছাড়াই ভাই’রাসটি থেকে যায় এবং ভাই’রাসের সংক্র’মণের কোন স্পষ্ট লক্ষণ না থাকে বা অসুস্থতায় তাদের উপর কোনও ব্যথা অনুভব না হয় তবেই এটা ঠিক আছে। আমরা এটাই করতে চাইছি। অবশ্যই আপনি যখন সেলফ-আইসোলেশনে থাকেন এবং কোনও উচ্চ ঝুঁ’কির লোকের সংস্প’র্শে না আসেন তখন এটা ঘটে।

এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কোনও ব্যক্তিকে কখনই বাইরে বেরোন এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে করোনভাই’রাসটি ধরার চেষ্টা করা উচিত নয়। আমরা দিনরাত নিখুঁত ভ্যা’কসিন তৈরি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, যা ভাই’রাসটি প্রতিরোধ করতে পারবে।

করোনা পরিস্থিতি ভালো হওয়ার পরিবর্তে আরও খারাপ হবে বলে সতর্ক করেছেন ডাক্তার অ্যালেক্স। পরবর্তী দুই সপ্তাহে হাসপাতালগুলিতে করোনা রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে জোর দিয়ে দাবি করেছেন ২৭ বছরের এই ডাক্তার।

সূত্র: মিরর ইউকে