সামাজিক দূরত্ব অনেকেই মানছে না, বেরিয়ে আসছে মানুষ

সামাজিক দূরত্ব অনেকেই মানছে না কেউ। জটলা পাকিয়ে কাঁচাবাজারগুলোতে কেনাকাটা চলছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানেও জনসাধারণের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও মুদির দোকান ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। করোনা আত’ঙ্কের মধ্যেও সামাজিক দূরত্ব না মেনে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজার ও রাস্তাঘাটে ঘুরছেন হাজারো মানুষ। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের পক্ষ থেকে এক মিটার দূরত্ব রেখে চলাচলের নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা খুব কম মানুষই মানছে।

নগরীর বহদ্দারহাট, রিয়াজউদ্দিন বাজার, ষোলশহর ২নং গেট কর্ণফুলী মার্কেট, চকবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা জটলা পাকিয়ে কেনাকাটা করছে। দূরত্ব না মেনে কেনাকাটা করার কারণে সরকারের নির্দেশনা হুম’কির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা বন্ধ না করা গেলে এর ফল খুবই খারাপ হবে। করোনাভাই’রাসের সংক্র’মণ ঠেকানোর জন্য গত ২৬ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি চলছে। এ সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জনজীবন গৃহবন্দী রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সরকার। কিন্তু লোকের যাতে খাবারের অভাব না হয়, সেই জন্য মাছ, মাংস, শাকসবজির বাজার, মুদির দোকান ও ফার্মেসি খোলা রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এসব পণ্যের দোকানে ক্রেতারা জটলা পাকিয়ে বাজার করছে। অথচ এসব বাজারগুলো ঘুরে ঘুরে আই’নশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দোকানদারদের দেখিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে ক্রেতাদের সঙ্গে কতটা দূরত্ব রাখতে হবে। এমনকি রাস্তায় খড়িমাটি কিংবা চক দিয়ে দাগ টেনে বুঝিয়েছেন, ক্রেতারা কতদূরে দাঁড়াবেন। কিন্তু বেশ কিছু কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতার জটলা দেখা গেছে। ফলে সং’ক্রমণ ঠেকিয়ে রাখার যে সরকারি কর্মসূচি, তা কার্যত পথে বসছে। শুধু কাঁচাবাজার নয়, নগরীর অলিগলিতে দেদারছে আড্ডা দিচ্ছে বিভিন্ন বয়সি লোকজন। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাও আড্ডা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর আড্ডা দেখা যায় বেশি। দিন দিন এ আড্ডার সংখ্যা ক্রমশ: বাড়ছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে ডিসি হিল মোড় পর্যন্ত সড়কের পাশে মানুষের ব্যাপক দেখা গেছে। নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন ফরিদাপাড়া, সমশের পাড়া, খাজা রোড, বায়েজিদের শেরশাহ কলোনী, বাংলা বাজারসহ বিভিন্ন বস্তি এলাকার অলিগলি সড়কগুলোতে আড্ডা দেখা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী লোকজন।

সূত্র: পূর্বকোণ