কারফিউ জারি করুন, সরকারের প্রতি ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ

করোনাভা’ইরাস থেকে জনগণকে বাঁচাতে সরকারকে সারাদেশে কারফিউ জারি করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও কিশোরগঞ্জের সর্ববৃহৎ শোলাকিয়া জামাতের ইমাম শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্ব মুসলিমদের ধর্মীয় আবেগের জায়গা মক্কা ও মদিনায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশে সরকার কেন এখনো কারফিউ জারি করতে দ্বিধা করছে? সরকারকে উদ্দেশ্য করে আল্লামা মাসঊদ বলেন, বিশেষজ্ঞরা যে সময়টুকুতে ভাই’রাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশ’ঙ্কা প্রকাশ করছেন, অন্তত এই সময়টুকু কারফিউ জারি রাখুন।

রোববার দুপুরে সরকারের প্রতি মাসঊদ এ আহ্বান জানান। সেইসঙ্গে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও আর্থিক নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতেও সরকারের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান। মহামা’রির সময় ঘরে থাকা ও সতর্কতা অবলম্বনে ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে জানিয়ে শাইখুল হাদীস আল্লামা মাসঊদ বলেন, হযরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মহামা’রির সময় কেউ যদি ধৈর্য্য ধারণ করে এবং আল্লাহ উপর ভরসা রেখে ঘরে অবস্থান করে, তারপরও সে মহামারিতে আ’ক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যুবরণ করে, তাহলে সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। জনগণকে পরস্পর বিচ্ছিন্নতা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনসাধারণকে বলছি, আপনার ঘরে থাকুন। কেউ বের হবেন না। পরস্পর বিচ্ছিন্ন থাকুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।

করোনা ভাই’রাস মহামা’রী থেকে বাঁচার উপায় কি জানতে চাইলে আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, এ ব্যাপারে ইসলামের তিনটি দিকনির্দেশনা রয়েছে। প্রথমত: আমাদেরকে আল্লাহ তা’আলার প্রতি সমর্পিত হতে হবে। নিজ নিজ গোনাহের তওবা করতে হবে। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে মাফ চাইতে হবে। দ্বিতীয়ত: আমাদের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সমস্ত সতর্কতা অবলম্বন করেই আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করব।

তৃতীয়ত: সদকা করা। আমাদেরকে সামর্থ্যানুযায়ী দান খয়রাত করতে হবে। হাদীসে এসেছে , সদকা তথা দান খয়রাত করার দ্বারা আল্লাহ তা’আলা মানুষের উপর থেকে বিপদকে সরিয়ে দেন। শুধু যে ধনী ব্যক্তিরাই দান করবে তা নয়। প্রত্যেকেরই সামর্থ্য অনুসারে দান করা উচিৎ। সহমর্মিতা ও মহানুভবতা নিয়ে আমাদের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

সূত্র: সমকাল।