ইতালিতে কমতে শুরু করেছে মৃতের সংখ্যা

লা’শের স্তুপ দেখতে দেখতে অনেকটা অভ্যস্থ হয়ে গেছে ইতালির মানুষ। মহামা’রি আকার ধারণ করা করোনাভাই’রাসে একদিনে মৃ’তের সংখ্যা যেখানে হাজারের কোটা ছুঁইছুঁই করছিল সেখানে সেই সংখ্যাটি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যুর সংখ্যা। এতেই অনেকটা আশায় বুক বাঁধছে চরম হতাশায় নিমজ্জিত ইতালির ছয় কোটি মানুষ।

রবিবার তুলনামূলকভাবে মৃ’ত্যুর সংখ্যা ছিল কম। এদিন মারা গেছে ৫২৫ জন। আজকের মৃ’ত্যুহার আগের কদিনের চেয়ে শতাধিক কম। শনিবার প্রাণ হারিয়েছিল ৬৮১ জন। শুক্রবার এ সংখ্যা ছিল ৭৬৬ জন। বৃহস্পতিবার মোট প্রাণ হারিয়েছিল ৭৬০ জন। বুধবার প্রা’ণহানির সংখ্যা ছিল মোট ৭২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট মৃ’ত্যুর সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৮৭ জন।

একদিনে নতুন আক্রা’ন্ত চার হাজার ৩১৬ জন। দেশটিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৯৭৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮১৮ জন। চিকিৎসাধীন ৯১ হাজার ২৪৬ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আ’ক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ২৮ হাজার ৯৪৮ জন বলে জানিয়েছেন নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি। তিনি বলেন, জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকার করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২১ হাজার ৮১৫ জন।

ইতালির ২১ অঞ্চলের মধ্যে লোম্বারদিয়ায় করোনার সবচেয়ে বেশি আক্রা’ন্ত (মিলান, বেরগামো, ব্রেসিয়া, ক্রেমনাসহ) ১১টি প্রদেশ। রবিবার এ অঞ্চলে মা’রা গেছে ২৪৯ জন। গতকালের চেয়ে আজ সংখ্যায় কম, শনিবার এ সংখ্যা ছিল ৩৪৫ জন। শুধু এ অঞ্চলেই মৃ’ত্যুর সংখ্যা বেড়ে আট হাজার ৯০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। মোট আক্রা’ন্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ৪৪৫ জন। আজ মোট আক্রা’ন্তের সংখ্যা এক হাজার ৩১৭ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৮৪ জন।

লোম্বারদিয়ার প্রেসিডেন্ট আত্তিলিয়ো ফোনতানা জানান, মিলানের বিখ্যাত ফিয়েরা মিলানো সিটি পরিণত হয়েছে ইতালির সবচাইতে বড় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে। সোমবার থেকে এ আপদকালীন হাসপাতালটি চালু হবে। ২০০ আইসিইউ বেড সম্বলিত অত্যাধুনিক এই হাসপাতালটি পলি ক্লিনিকের তত্ত্বাবধানে ২০০ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৫০০ অভিজ্ঞ নার্স এবং ২০০ স্বাস্থ্যকর্মী চব্বিশ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবেন ভয়ঙ্ক’র জী’বাণু কোভিড-১৯ আক্রা’ন্ত মুমূর্ষু রোগীদের বাঁচাতে।

তিনি আরো বলেন, এখনো অনেক লোক অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করছে। তিনি সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেন। এছাড়াও তিনি বলেন, কেউ মাক্স ছাড়া বাইরে বের হবেন না। লোম্বারদিয়া এলাকায় তাবাকি, পোস্ট অফিস, সুপারশপগুলোতে জনসাধারনের জন্য মাক্স এবং হাতমোজা ফ্রিতে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

ইতালি জুড়েই চলছে লকডাউন। এদিকে স্টার সানডে’কে সামনে রেখে ইতালির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেগা নর্দ নেতা মাথেও সালভিনি দেশের এই দু’র্যোগ মুহূর্তে সব গির্জাকে প্রার্থনা জন্য খুলে দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের এই দুর্দিনে আমাদের প্রত্যেকেরই প্রার্থনা করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশের এই দুর্দিনে ৭ হাজার ২২০ জন অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মী স্বাস্থ্যসেবা দিতে করোনায় আক্রা’ন্তদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

এদিকে রবিবার চীন থেকে ইতালির পালেরমো এলাকায় ৪০ টন চিকিৎসাসামগ্রী এসে পৌঁছেছে। শনিবার মিশরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে ইতালিতে এসেছেন। এছাড়াও করোনায় আ’ক্রান্তদের সহযোগিতায় আলবেনিয়া, চীন, কিউবা এবং রাশিয়া থেকে আগত মেডিকেল টিম ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রা’ন্তদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।-ঢাকাটাইমস