মাত্র ৭ দিনে ৭১ লাখ টাকা অনুদান আসলো আজহারীর রমজান ফুড প্যাক তহবিলে

দেশের মহা সংক’টময় মুহূর্তে এলাকার অসহায় মানুষের সাহায্যের জন্য সাধ্যমত সবাই এগিয়ে আসছে। এই তালিকায় আছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। করোনার কারছে দেশে চলছে লকডাউন। ফলে দিনমজুর-শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। কোন ধরনের ইনকাম না থাকায় তারা খেয়ে না খেয়ে কোনমতে দিন পার করতেছে। সামনে আসতেছে রমজান মাস। আসন্ন রমজান উপলক্ষে মিজানুর রহমান আজহারী একটি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই তহবিলে রবিবার পর্যন্ত জমা হয়েছে ৭১ লাখ ২৫ হাজার ৮৮১ টাকা।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, রমজান ফুড প্যাক’-এর তহবিল সংগ্রহের জন্য আমরা ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলাম। এই ৭ দিনের মধ্যে তহবিলে (২ টিব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ২টি বিকাশ) সর্বমোট ৭১ লাখ ২৫ হাজার ৮৮১ টাকা অনুদান এসেছে।’

মিজানুর রহমান আজহারী আরও বলেন,এই অনুদানের অর্থ, বাংলাদেশের ৮ বিভাগের মধ্যে ৩৫ টি জেলায়, প্রায় সাড়ে ৫ হাজার অসহায় দরিদ্র পরিবারের হাতে আমরা ‘রমজান ফুড প্যাক’ পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের বিতরণ কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। অল্প কয়েকটি জেলা এখনও বাকি আছে। তবে রমজান মাস শুরুর আগেই সেগুলা বিতরণ করা শেষ হবে ইনশাল্লাহ। এই মানবিক কাজটি সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারায়,মহান আল্লাহর সুমহান দরবারে মস্তকাবনত চিত্তে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি’

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী আরও বলেন, ‘দেশে-বিদেশের অনেক ব্যাংক বন্ধ থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকে অনুদান দিতে পারেননি। এছাড়া মাত্র ২ বিকাশ নাম্বার ছিল আমাদের। সেগুলা বারবার লিমিট ক্রস করায় অনেকের অনুদান আমরা গ্রহণ করতে পারিনি। পাশাপাশি বিগত ৭ দিন এই নাম্বার ২ টিতে অনবরত ফোন আশায় আমরা সবার ফোন রিসিভ করতে পারিনি। এজন্য সবার কাছে আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে হ্যা, আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার কোন ঘাটতি ছিল না। আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করে গেছি।’

রমজান ফুড প্যাকের মধ্যে কি কি খাদ্য দ্রব্য ছিল সেটাও তিনি সবাইকে জানিয়ে দেন। প্রতি প্যাকেটে চাল ছিল ৫ কেজি, ডাল ২ কেজি, আলু ২ কেজি, পেঁয়াজ ২ কেজি, তেল ২ কেজি, ছোলা ১ কেজি, চিনি ১ কেজি, লবণ ১ কেজি এছাড়া আর নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস ছিল।

বর্তমান যুবকদের আইডল, যুবক-বৃদ্ধ সবার ভালবাসার ব্যাক্তি, শিক্ষিত তরুণ বক্তা, মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী যিনি অল্প সময়ের মধ্যে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যাক্তি হয়ে উঠেছেন। মাত্র ৭ দিনের মধ্যে বিপুল পরিমান এই অনুদান পাওয়া সেই বিষয়টি আবারো প্রমান করল।