ক্ষুধার্তকে খাদ্য দানের গুরুত্ব ও ফযিলত

প্রতীকী ছবি

যাবতীয় প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলার জন্য, যিনি মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তিনি মানব জাতিকে একে অপরের কল্যাণ সাধনের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষের কল্যাণ সংশ্লিষ্ট যত কাজ আছে তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম হচ্ছে দরিদ্র, ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য দান করা। ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষুধার্ত ব্যক্তিদের খাদ্য দানের গুরুত্ব ব্যাপক। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদিছে এ ব্যাপারে অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য দানের কিছু গুরুত্ব ও ফযিলত আমরা জেনে নিই-

*. মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করা : পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে মহান আল্লাহ ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য দানের আদেশ দিয়েছেন এবং উৎসাহিত করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, ‘উত্তম ক্ষুধায় কাতর ইয়াতিম নিকটাত্মীয়কে অন্নদান করা। অথবা অঙ্গহীন ভূলুণ্ঠিত অভাবগ্রস্তকে’ (বালাদ ৯০/১৪-১৬)।

অন্যত্র তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মুমিনরা আল্লাহর প্রতি ভালবাসার টানে খাদ্য দান করে অভাবী, ইয়াতিম ও কয়েদীদেরকে’ (দাহর ৭৬/৮)।

তাই আমরা ক্ষুধার্ত দরিদ্র ব্যক্তিকে খাদ্য দানের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী বান্দা হিসাবে গণ্য হ’তে পারি।

*.ইহা সর্বোত্তম আমল : ইবাদত মূলতঃ দুই ভাগে বিভক্ত। এক. মহান আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত ইবাদত। তাকে হাক্কুল্লাহ বলে যেমন- ছালাত, ছিয়াম ইত্যাদি।

দুই. বান্দার সাথে সম্পৃক্ত ইবাদত, যাকে হাক্কুল ইবাদ বলে। যেমন- মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার করা, মানুষের বিপদে এগিয়ে আসা ইত্যাদি। হাক্কুল ইবাদের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাবার দান করা। ক্ষুধায় কাতর ব্যক্তি সব দিক দিয়ে দুর্বল হয়, খাবারের অভাবে সে অসহায় ও অচল হয়ে পড়ে তাই ক্ষুধার্তকে আহার করিয়ে পরিতৃপ্ত করা মহান আল্লাহর কাছে পসন্দনীয় আমল। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, ‘একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে প্রশ্ন করলেন, ইসলামে কোন কাজটি শ্রেষ্ঠ? নবী করীম (ছাঃ) বললেন, ইসলামে সবচেয়ে ভাল কাজ হচ্ছে ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাবার খাওয়ানো’।তাই ক্ষুধার্তকে খাদ্য দানকারী ব্যক্তি সর্বোত্তম আমলকারী বলে গণ্য হবেন।

*. মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ : ক্ষুধার্ত ব্যক্তিদের খাদ্য দানকারী ব্যক্তি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে ধন্য হবেন।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা বলে, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদের আহার্য দান করি, তোমাদের নিকট এর কোন প্রতিদান চাই না এবং কৃতজ্ঞতাও কামনা করি না’ (দাহর ৭৬/৯)।

রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘দয়াশীলদের উপরে দয়াময় আল্লাহ দয়া করে থাকেন। তোমরা জমীনবাসীদের উপরে দয়া কর, আসমানবাসী (আল্লাহ) তোমাদের উপরে দয়া করবেন’।অপর হাদিছে এসেছে,‘যে ব্যক্তি অনুগ্রহ করে না, তার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ হয় না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,

‘আর যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকবে, আল্লাহ তার সাহায্যে থাকবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ তাকে ক্বিয়ামতের দিনের বিপদ সমূহের একটি বড় বিপদ দূর করে দিবেন’।ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করার ফলে মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়, এতে করে আমরা দুনিয়াতেই মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করতে পারি। আবার ক্ষুধার্তকে খাদ্য দানের মাধ্যমে তার কষ্ট লাঘব করা হয় এতে মহান আল্লাহ ক্বিয়ামতের দিন আমাদের কষ্টসমূহ লাঘব করে দিবেন।

*. মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় : আমরা সর্বদা মহান আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামতের মাঝে ডুবে আছি। শুধু আমাদের শরীরের দিকে তাকালেই আমরা দেখতে পাই কত সুঠাম ও সুশ্রী করে আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন। কথা বলার জন্য দিয়েছেন বাকশক্তি, তার নেয়ামতরাজি অবলোকন করার জন্য দিয়েছেন অমূল্য দৃষ্টিশক্তি। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দানের মাধ্যমে আমরা তার দেওয়া এই সমস্ত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি এবং তার দেখানো পথে চলতে পারি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমরা কি দেইনি তাকে দু’টি চোখ? এবং জিহবা ও দু’টি ঠোঁট? আর আমরা তাকে দেখিয়েছি দু’টি পথ। কিন্তু সে তো গিরিসংকটে প্রবেশ করেনি। তুমি কি জানো গিরিসংকট কি? তা হ’ল দাসমুক্তি। অথবা ক্ষুধার দিনে অন্নদান করা ইয়াতিম নিকটাত্মীয়কে। অথবা ভূলুণ্ঠিত অভাবগ্রস্তকে’ (বালাদ ৯০/৮-১৬)।

উপরোক্ত আয়াতসমূহে মহান আল্লাহ প্রথমে তাঁর দেওয়া কিছু অমূল্য নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। চক্ষু, কর্ণ, জিহবা ইত্যাদি যা ছাড়া মানুষের স্বাভাবিক অবয়ব কল্পনা করা যায় না। অতঃপর তিনি দু’টি পথের কথা বলেছেন, একটি ভাল, অপরটি মন্দ। মানুষকে তিনি চক্ষু-কর্ণ দেওয়ার মাধ্যমে কোনটি ভাল কোনটি মন্দ পথ তারও সম্যক জ্ঞান দিয়েছেন। অতঃপর বলেছেন, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে না হয় অকৃতজ্ঞ। অর্থাৎ তাঁর দেখানো পথে না চললে অকৃতজ্ঞ হবে আর তাঁর পথে চললে কৃতজ্ঞ হবে। তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার পথটিও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাহল সৎকাজ, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান। এ কাজের মধ্য দিয়েই আমরা তাঁর পথের অনুসারী হয়ে কৃতজ্ঞ বান্দায় পরিণত হতে পারি। এতে করে দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদের সম্মান ও সম্পদ আরও বৃদ্ধি পাবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তাহ’লে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে বেশি বেশি করে দিব’ (ইবরাহীম ১৪/৭)।

*. রাসূল (ছাঃ)-এর আনুগত্য : গরিব, অসহায় ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাদ্য দানকারী ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর অনুগত্যকারী ব্যক্তি বলে গণ্য হবেন। কেননা রাসূল (ছাঃ) ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা ভিক্ষুক (ক্ষুধার্তকে) কিছু না কিছু দাও, আগুনে পোড়া একটা খুর হলেও’।অতএব, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর পূর্ণ আনুগত্যকারী উম্মত হ’তে চাইলে আমাদেরকে ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করতে হবে। কেননা তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সে ব্যক্তি পূর্ণ মুমিন নয় যে নিজে পেট পুরে আহার করে কিন্তু তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে’।তিনি আরও বলেন, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান কর। তাহ’লে শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে।[8]

*. বিশেষ সাহায্য লাভ : ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান এমন একটি আমল, যার দ্বারা একজনের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করা হয়। কারণ ক্ষুধার্তকে দান করে নিঃস্ব মুসলিম ভাইয়ের অভাব পূরণের চেষ্টা করলে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। আর এতে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য লাভ করা যায়। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে লোক তার কোন মুসলিম ভাইয়ের অভাব পূরণের চেষ্টা করে মহান আল্লাহ তার অভাব পূরণ করবেন।অন্যত্র তিনি আরও বলেছেন, ‘যে লোক কোন গরিবের চলার পথ সহজ করে দেয় ইহকালে ও পরকালে মহান আল্লাহ তার চলার পথ সহজ করে দিবেন’।তাই আমাদেরকে গরিব ক্ষুধার্তকে খাদ্য দানের মাধ্যমে তার অভাব পূরণের চেষ্টা করতে হবে।

* ক্ষুধার্তকে খাদ্য দানে আল্লাহর সন্তোষ্ট : ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করলে মহান আল্লাহ খুশি হন। একদা এক ব্যক্তি মহানবী (ছাঃ)-কে এসে বললেন, আমি ক্ষুধায় কাতর হয়ে গেছি। আল্লাহর নবী (ছাঃ) দ্রুত তাঁর এক স্ত্রীর নিকট খবর পাঠালেন। তখন খবর আসল বাড়িতে পানি ব্যতীত কিছুই নেই। অতঃপর তিনি অন্য স্ত্রীর নিকট খবর পাঠালেন তিনিও জানালেন আল্লাহর কসম বাড়িতে পানি ব্যতীত কিছুই নেই। এমনকি তিনি সকল স্ত্রীর নিকটেই খবর পাঠালেন এবং সকলে একই কথা বললেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নবী (ছাঃ) ছাহাবিদের মাঝে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন কে এই রাতে এই ক্ষুধার্তকে মেহমান হিসাবে গ্রহণ করবে? ছাহাবীদের মধ্যে একজন ছাহাবি আবু তালহা আনছারী (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমি এই ক্ষুধার্তকে মেহমান হিসাবে গ্রহণ করলাম। অতঃপর আবু তালহা (রাঃ) ক্ষুধার্ত ব্যক্তিটিকে সাথে নিয়ে তার বাড়িতে গেলেন।

তার স্ত্রীকে বললেন, তোমার নিকট কোন খাবার আছে কি? রাসূল (ছাঃ)-এর ক্ষুধার্ত মেহমানের আপ্যায়ন কর। তার স্ত্রী বললেন, ঘরে কেবল বাচ্চাদের স্বল্প খাবার আছে। আবু তালহা (রাঃ) তার স্ত্রীকে বললেন, তাতেই চলবে। তুমি বাচ্চাদেরকে কোন জিনিস দ্বারা ভুলিয়ে তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দিবে আর মেহমান যখন আমাদের ঘরে প্রবেশ করবে তখন তুমি বাতি নিভিয়ে দিবে এবং তাকে বুঝাবে যে আমরাও খাবার খাচ্ছি। অতঃপর তারা পরিকল্পনা মত তাই করলেন এবং দু’জনে উপবাসে রাত কাটিয়ে দিলেন। পরদিন সকাল বেলা আবু তালহা (রাঃ) যখন নবী করীম (ছাঃ)-এর কাছে গেলেন, তখন নবী করীম (ছাঃ) তাকে কাছে ডেকে বললেন, জিব্রীল (আঃ) এসে আমাকে খবর দিয়েছেন তোমরা কাল রাতে ঐ ক্ষুধার্ত মেহমানের সাথে যে আচরণ করেছ তাতে স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা আশ্চর্য হয়েছেন অথবা তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন’।

*. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী, অবিরাম ছালাত ও ছিয়াম পালনকারীর ন্যায় : গরিব ক্ষুধার্তদের খাদ্য দান করা, তাদের খাদ্যের জন্য চেষ্টা-সাধনা করা এতই মর্যাদাপূর্ণ যে, ঐ ব্যক্তি মহান আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর মর্যাদা লাভ করে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, বিধবা ও মিসকীনদের জন্য চেষ্টা সাধনাকারী মহান আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য’।ক্ষুধার্তের জন্য প্রচেষ্টাকারী শুধু জিহাদকারীর মর্যাদা লাভ করবে তা নয়, এমনকি সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে অব্যাহতভাবে দিনে (নফল) ছিয়াম পালনকারী এবং প্রতি রাত্রে ছালাত (তাহাজ্জুত) আদায়কারীর ন্যায়। প্রখ্যাত ছাহাবি আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয় রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মিসকিনদের জন্য চেষ্টা-সাধনাকারীদের সম্বন্ধে একথাও বলেছেন যে, ঐ ব্যক্তি একাধারে ছালাত ও ছিয়াম পালনকারীর ন্যায়’।

*. জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামত লাভ : মহান আল্লাহর ভালবাসা পাবার লক্ষ্যে দুস্থ-গরিবের প্রতি খাদ্য দানকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং সে জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামতরাজি ভোগ করতেই থাকবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা আল্লাহর প্রতি তাদের ভালবাসার খাতিরে খাদ্য দান করে ক্ষুধার্ত ইয়াতিম, মিসকিন ও কয়েদীদের। যার কারণে মহান আল্লাহ তাদেরকে কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনের অনিষ্টতা হ’তে রক্ষা করবেন। শুধু তাই নয়, তাদেরকে দান করবেন আনন্দ এবং সজীবতা। তাদের ধৈর্যশীলতার জন্য দিবেন জান্নাতের রেশমী পোশাক। জান্নাতে তারা উচ্চ আসনে হেলান দিয়ে বসবে’ (দাহর ৭৬/৮-২২)।

রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা বেশি বেশি ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান কর, তাহ’লে শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে’।

*. সামাজিক গুরুত্ব :

(১) মানুষের প্রধান মৌলিক চাহিদা পূরণ : খাদ্য মানুষের প্রধান মৌলিক চাহিদা। এই অন্নের তাড়নায়ই বহু দরিদ্র ব্যক্তি নানাবিধ সামাজিক অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ে। যেমন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি। এসবের মূলে রয়েছে অভাব। তাই ক্ষুধার্ত দরিদ্রদের খাদ্য দানের মাধ্যমে সমাজে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে, যার ফলে কমে যাবে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই। বিরাজ করবে স্থিতিশীলতা।

(২) পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় : ক্ষুধার্তকে খাদ্য দানের মাধ্যমে সমাজে বসবাসরত উচ্চ শ্রেণী দরিদ্র শ্রেণীর সাহচর্যে আসে, তাদের পাশে দাঁড়ায়। ফলে উভয় শ্রেণীর মধ্যে ব্যবধান কমে যায় এতে তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। একের প্রতি অন্যের শ্রদ্ধা-ভালবাসা, আন্তরিকতা ইত্যাদি বৃদ্ধিপায়।

(৩) বৈষম্যহ্রাস : ক্ষুধার্তকে খাদ্য দানের মাধ্যমে একজনের কষ্টে আরেক জনের এগিয়ে আসা হয়। ফলে সমাজে শান্তি স্থিতিশীলতা বিরাজ করে এবং পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে উঠে। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দানের মাধ্যমে ধনীরা দরিদ্রদের কাছে আসে ফলে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য অনেকাংশে কমে যায় এবং ক্ষুধার্ত ব্যক্তিরাও খাবার পেয়ে পরিতৃপ্তি লাভ করে।

আমরা সামান্য একটু ত্যাগের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য বা রহমত লাভ করতে পারি।আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষুধার্তদের খাদ্য দান করার তাওফিক দান করুন।