ঝালকাঠিতে পুত্রের হামলায় পিতার মৃত্যু, চিকিৎসাধীন মা

ঝালকাঠির মাদক ও জুয়াসক্ত পুত্র মাহফুজ আকনের বেধড়ক পিটুনিতে মা-বাবা দুজনেই গুরুতর আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে বাবা মোঃ ইসমাইল আকনের (৫২)। ঘটনার পর ঘাতক মাহফুজ (১৯) আত্মগোপন করলেও রোববার (১০ মে) রাতেই তাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে রাজাপুর থানা পুলিশ। রোববার রাতের প্রথম প্রহরে বরিশাল শেবাচিমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইসমাঈল আকনের মৃত্যু হয়। পুত্রের হাতে নির্মমভাবে নিহত হতভাগ্য ইসমাঈল আকন উপজেলার কাঠিপাড়া এলাকার মৃত. আব্দুল হামিদ আকনের ছেলে। অন্যদিকে, মারাত্মক আহতাবস্থায় শেবাচিমে চিকিৎসাধীন মাহফুজের মা রোকেয়া বেগম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় চিহ্নিত জুয়াড়ি, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত বখাটে মাহফুজ আকন কয়েক দিন আগে নিজেদের বাড়িতে জুয়া খেলার সামগ্রী এনে লুকিয়ে রাখলে তার বাবা সেটা দেখে ফেলে। অন্যদিকে গত ৯ মে উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪ জুয়াড়িকে আটক করে ১ মাসের কারাদণ্ড দেয়ায় মাহফুজের পিতা ইসমাইল আকনেরও টনক নড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে পরের দিন ১০ মে রোববার সন্ধ্যায় মাহফুজের বাবা ইসমাইল হোসেন মাহফুজের ঘরে রাখা ওই জুয়ার সরঞ্জাম বাইরে ফেলে দেয়।

এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মাহফুজ ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে বাবাকে বেধড়ক মারধরের এক পর্যায়ে মাথায় জখম হয়ে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্বামীকে রক্ষায় রোকেয়া বেগম ছুটে আসলে তাকেও এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা করলে মাথাসহ একাধিক স্থানে জখম করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বখাটে পুত্র। এসময় তাদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ইসমাইল আকন ও রোকেয়া বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আশংকাজনক অবস্থায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য দুজনকেই বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।

স্থানীয়রা আরও জানায়, ঘাতক পুত্র মাহফুজ পার্শ্ববর্তী কাউখালী উপজেলার কাঠালিয়া টেকনিক্যাল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র হলেও সে এলাকায় চিহ্নিত জুয়াখোর, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। এলাকায় সে জুয়াড়ি মাহফুজ নামে পরিচিত। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত ইসমাঈল আকন ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকুরি করতেন, তার দুটি সংসার রয়েছে। প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ইসমাঈল আকন ঢাকায় বসবাস করতেন। মাঝে মাঝে তিনি এলাকায় আসতেন। সম্প্রতি তিনি করোনার ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন।

এ বিষয়ে রাজাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: জাহিদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘাতক পুত্র মাহফুজকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের পর সোমবার বিকালে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় মাহফুজ আকনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র: একুশে টেলিভিশন