কোয়ারেন্টিনে অ্যাটাচড বাথরুম, এসির পর এখন তিন বেলা চাইনিজ খেতে চান প্রবাসী

মো. মাসুম চৌধুরী (৩৫), লন্ডন প্রবাসী এ ব্যক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় তথ্য গোপন করে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে তার বাড়িতে লাল পতাকা উড়িয়ে লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর পর তিনি বিভিন্ন রকম দাবি করতে শুরু করেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে অ্যাটাচড বাথরুম, এসির পর এখন তিনবেলা চাইনিজ খাবার খেতে চান তিনি।

মাসুম চৌধুরীর প্রথম আবদার মেটাতে পারলেও এসির ব্যবস্থা করা যায়নি। এখন তিনবেলা চাইনিজে খেতে চাইলেও তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাকে। বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহের নিগার। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। উনাকে বলা হয়েছে সাধ্যমত সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু উনার চাহিদা তিন বেলা চাইনিজ খাবার। চাহিদা অনুযায়ী ইচ্ছে করলেই চাইনিজ খাবার দেওয়া সম্ভব না। ইচ্ছে করলেই এসি লাগিয়ে দেওয়া সম্ভব না। তবে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারটি অব্যবহৃত হাসপাতাল হওয়ার পরিবেশ খুবই ভালো। এখানে থাকা খুব একটা অসুবিধার কিছু না। ওনাকে বলেছি শান্ত থাকতে।’

গত ১১ মে ইংল্যান্ড প্রবাসী ওই ব্যক্তি দেশে ফেরেন। ওই দিনই তিনি নাসিরনগর উপজেলা সদর এলাকায় খোলামেলা মেলামেশা ও চলাফেরা শুরু করেন। উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ খবর পেয়ে একজন কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুম চৌধুরীকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার অনুরোধ জানান। কিন্তু তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন মাসুম। ওই কর্মকর্তা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে গত বুধবার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাশেমকে ওই প্রবাসীর বাড়িতে পাঠান। হোম কোয়ারেন্টিন মানতে অনুরোধ করায় চেয়ারম্যানের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন মাসুম।

বৃহস্পতিবার সকালে ছুটে যান নাসিরনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিনা আক্তার। তাকেও পাত্তা দিচ্ছিলেন না মাসুম। দুপুরে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ইউএনও নাজমা আশরাফী ওই প্রবাসীর বাড়িতে গিয়ে হোম কোয়ারেন্টিন মানতে বলেন। তখনও অশোভন আচরণ করেন মাসুম। লন্ডন শহরে তার করোনার পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং বাংলাদশে কেন আবার পরীক্ষা করা হবে এসব নিয়ে তর্ক করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমা আশরাফী বলেন, ‘এর আগেও ওই পরিবারের দুজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তথ্য গোপন করে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করে। পরে তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। প্রবাসী মাসুম ও তার পরিবার যে আচরণ করেছে, তা দুঃখজনক।’

সূত্র: আমাদের সময়।