আম্পানের তাণ্ডবে সারাদেশে ১৫ প্রাণহানি

উপকূলের পথে পথে ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে সুপার সাইক্লোন আম্পান। উপড়ে গেছে গাছ, ধ্বংস হয়েছে বাড়িঘর, নষ্ট হয়েছে ক্ষেতের ফসল। জেলায় জেলায় ভেঙে গেছে শহররক্ষা বাঁধ ও বেড়িবাঁধ। ঝড়ে এ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে পিরোজপুর ও পটুয়াখালীতে তিন জন করে, যাশোরে চার জন এবং চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ভোলা ও বরগুনায় একজন করে মারা গেছেন। মারা যাওয়া অনেকেই ঝড়ে গাছ বা ঘর চাপা পড়েন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এবং প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে ১২১ কিলোমিটারের মধ্যে ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় খুলনার কয়রা উপজেলার সাতটির মধ্যে চারটি ইউনিয়নের বেশিরভাগই পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি। ভেসে গেছে সাড়ে চার হাজার হেক্টর ঘেরের মাছ। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আহমেদ। প্রায় ১৪ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাড়ে ৪ হাজার মৎস্য ঘের পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এছাড়া সাড়ে ৪ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও ১৭শ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলা সদর, কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগরে ২০ থেকে ২৫টি বাঁধের পয়েন্ট ভেঙে সহস্রাধিক চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। ৫০ থেকে ৬০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ৭শ কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

আম্পানের আঘাতে পটুয়াখালীতে জোয়ারের উঁচু ঢেউয়ে জেলা শহর রক্ষাবাঁধ রাতে ভেঙে যায়। এতে শহরসহ ২০টি গ্রামের ১ হাজার ঘর পানিতে প্লাবিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলায় ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫ হাজার পুকুর পানিতে ভেসে যায়। ৪ হাজার কাঁচাঘর আংশিক ও ২ হাজার কাঁচাঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

ঘূর্ণিঝড়ে পিরোজপুরে ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার মাছের ঘের ও পুকুর। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজারের বেশি বাড়িঘর ও ২৫ কিলোমিটার কাঁচাপাকা রাস্তা বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ঘরবাড়ি,বেড়িবাঁধ ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের তথ্য মতে, প্রায় ১০ কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া নদীপারের প্রায় ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উপকূলীয় দ্বীপজেলা ভোলায় বিভিন্ন চরের চার শতাধিক পুকুর ও মাছের ঘেরের ক্ষতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জেলার সাত উপজেলার প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও একটি স্লুইচগেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ঝালকাঠিতে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উঁচু জোয়ারের পানিতে শহরের নদী পাড়ের বাড়িঘর তলিয়ে যায়। জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলে ৩০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

সূত্র: সময় নিউজ।