প্রেমিকার মামার বাড়ি পাশে প্রেমিকের মরদেহ, প্রেমিকা আটক

পাবনার চাটমোহরে শংকর চন্দ্র দাস নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউপির বোঁথর গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।  নিহত শংকর দাস উপজেলার অমৃতকুন্ডা গ্রামের দুলাল দাসের ছেলে।

বৃহস্পতিবার শংকর দাস তার প্রেমিকা রত্না দাসের সঙ্গে তার মামা বাড়ির পাশে ঘুরে বেড়ান। শুক্রবারও রত্না দাস মামা শম্ভুনাথ দাসের বাড়িতেই ছিলেন। পুলিশ মৃতের প্যান্টের পকেট থেকে টাকা, ৩টি মোবাইল ফোন সেট ও পাশে পড়ে থাকা মদের বোতল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অমৃতকুন্ডা গ্রামের মনি দাসের মেয়ে রত্না দাসকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, শংকর দাস বৃহস্পতিবার বোঁথর গ্রামে আসেন। তিনি তার কথিত প্রেমিকা রত্না দাসের সঙ্গে বোঁথর চড়ক বাড়ি এলাকায় ঘোরাফেরাও করেন। শুক্রবার দুপুরে শংকরের মরদেহ রত্নার মামা বাড়ির পাশে বড়াল নদী পাড়ে একটি বাঁশ ঝাড়ের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। এরপর তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রত্না দাসকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

রত্না দাস আটকের আগে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, শংকর ও তার বাড়ি একই এলাকায়। ছোটবেলা থেকেই তাদের বন্ধুত্ব। বিয়ের পরও মাঝে মধ্যেই মোবাইল ফোনে দু’জনের কথা হতো। বৃহস্পতিবারও মোবাইল ফোনে কথা হয় এবং বোঁথর চড়ক বাড়িতে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের কথা তিনি অস্বীকার করেন। শংকরের মারা যাওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

পাবনার এএসপি (চাটমোহর সার্কেল) সজীব শাহরীন জানান, এলাকাবাসী বড়াল নদী পাড়ে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মৃতের স্বজনরা এসে ওই যুবকের মরদেহ শনাক্ত করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত মদ পানেই শংকর দাস নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

চাটমোহর থানার ওসি সেখ মো. নাসীর উদ্দিন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতলে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রত্না দাসকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।-ডেইলি বাংলাদেশ