বাংলাদেশের সেরা কোচদের একজন ছিলেন স্টিভ রোডস : মাশরাফি

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল কোচ স্টিভ রোডস। ৭ জুন ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ইংল্যান্ডের সাবেক এই ক্রিকেটারকে। এরপর গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ জাতীয় দল থেকে বরখাস্ত করা হয় স্টিভ রোডসকে। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে স্টিভ রোডসকে নিয়ে।কোচ হিসেবে বাংলাদেশ সমর্থকদের অনেক পছন্দের ছিল স্টিভ রোডস। তোকে পছন্দ করা অনেক কারণও ছিল।

ওই সময়ে বেশকিছু সিরিজ জয়লাভ করে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। যদি শেষ দুই ম্যাচে উলটপালট করে দিয়েছে সব কিছু। কিন্তু তারপরও স্টিভ রোডসকে বরখাস্ত করার কোনো কারণ খুঁজে পান না তখনকার বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

দীর্ঘদিন পর হলেও স্টিভ রোডসের বরখাস্ত হওয়া নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ব্যর্থতার দায়ে স্রেফ অধিনায়কের ওপর ঝড় বয়ে যাওয়াই ছিল যথেষ্ট, কোচকে জড়ানোর প্রয়োজন ছিল না। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে ভিডিও সাক্ষাৎকারে ২০১৯ বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য আলোচনায় এই মন্তব্য করেন মাশরাফি।

এ সময় মাশরাফি বলেন, “আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, এসব ক্ষেত্রে একেকজনের একেকরকম মত থাকতে পারে, আমি ব্যক্তিগতভাবে স্টিভ রোডসের যাওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাইনি। এজন্য পাইনি, আমার ওপর দিয়েই তো সব গিয়েছে। একজনই যথেষ্ট ছিল, আমার মনে হয়। সাধারণত এ ধরনের টুর্নামেন্ট খারাপ গেলে একজনের ওপর দিয়েই ঝড় যায়।”

রোডসকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর কোনো যুক্তি মাশরাফি খুঁজে পান না। “আমার ক্ষেত্রে হলে (বাদ দিলে), বলির পাঁঠা বলতাম না। আমার ক্ষেত্রে এটিই বাস্তবতা, ‘পারফর্ম করোনি, তুমি সাইড হও।’ কিন্তু রোডসের ক্ষেত্রে, পারফরম্যান্সই যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়, ফলাফলের দিক থেকে তিনি কিন্তু বাংলাদেশের সেরা কোচদের একজন, যদি তার পরিসংখ্যান দেখা হয়।”

“অনেক কোচই দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুতে সময় লাগে। কিন্তু রোডসের সময় দল কেবল শুরুতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে দুটি টেস্ট হেরেছে। এরপরই দল জিততে শুরু করেছে। তার আমলেই বাংলাদেশ প্রথম ট্রফি জিতেছে, সাকিব-তামিমকে ছাড়া এশিয়া কাপ ফাইনাল খেলেছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের দেশে ও আমাদের দেশে ওয়ানডে সিরিজে জয় এসেছে। সেদিক থেকে বললে রোডস সবচেয়ে সফল কোচ।”

এত সফল কোচ কে তবে কেন বরখাস্ত করলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। যদিও ২০১৯ বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শুরুটা দারুণ করলেও শেষ দুই ম্যাচে সবকিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে স্টিভ রোডসের ক্যারিয়ার।

অষ্টম স্থানে থেকে বিশ্বকাপের শেষ করে বাংলাদেশ। এরপর হঠাৎ করেই সংবাদের শিরোনাম হয় বাংলাদেশ থেকে বরখাস্ত হচ্ছেন স্টিভ রোডস। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে স্টিভ রোডসকে সরিয়ে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। যা মাশরাফির কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

“শুধু বিশ্বকাপের কথা দিয়ে যদি বিবেচনা করা হয়, আমার কথা আগেই বলেছি, আমি ডান অ্যান্ড ডাস্টেড, পারফর্ম করতে পারিনি, আউট করে দিক। সমস্যা নেই। কিন্তু রোডসের কথা বললে, সে কিন্তু বলতে পারে যে বিশ্বকাপে শেষ দুই ম্যাচের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেমি-ফাইনালের দৌড়ে ছিল। আমি তাকে কোনো দিক থেকে অসফল দেখি না।” “আমার মতামত যদি জানতে চান, আমি বলব, রোডস খুবই দুর্ভাগা কোচ, দল পারফর্ম করার পরও তাকে চলে যেতে হয়েছে।”

বোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য তার আপত্তির কিছু নেই, জানালেন মাশরাফি। “তবে বোর্ডের সিদ্ধান্তকে সবাইকে স্বাগত জানাতে হবে। সহজভাবে দেখতে হবে। সেই জায়গা থেকে কেন নয়! তবে আপনি যেহেতু ব্যক্তিগত মত জিজ্ঞেস করেন, আমি ব্যক্তিগতভাবেই বললাম।”শুধু মাশরাফি বিন মুর্তজা নয় স্টিভ রোডসকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিসিবি ধুয়ে দিয়েছিলেন ভারতের বর্তমান সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী।